বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেয়ার বিজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:২০, ২০ জুলাই ২০২৬

গোল করেও হতাশ উইলিয়ামস, যে নিয়মে বাতিল হলো গোল

গোল করেও হতাশ উইলিয়ামস, যে নিয়মে বাতিল হলো গোল

ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের ফল নির্ধারণ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে ম্যাচের নিষ্পত্তি আরও আগেই হতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ, অতিরিক্ত সময়ে নিকো উইলিয়ামসের করা একটি গোল বাতিল হওয়ায় স্পেনকে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের শেষ পর্যন্ত।

ফাইনালের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। তরুণদের নিয়ে গড়া দলটি বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের ৯৬তম মিনিটে স্পেনের ফরোয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস দারুণ এক শটে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান। গোলের পর স্পেনের খেলোয়াড়রা উদযাপনে মেতে উঠলেও কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

রেফারির এমন সিদ্ধান্তে মাঠে উপস্থিত দর্শক, ধারাভাষ্যকার এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, গোল হওয়ার ঠিক আগে আক্রমণ তৈরির সময় স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো বক্সের মধ্যে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্দির পায়ে আঘাত করেন। উইলিয়ামসের কাছে বল যাওয়ার আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন রেফারি।

ফিফার লজ অব দ্য গেম অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে আক্রমণকারী দলের কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউল করেন এবং সেই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় গোল আসে, তাহলে গোলটি বাতিল করা হয়। এই নিয়ম অনুসারেই নিকো উইলিয়ামসের গোলটি বাতিল করা হয়।

রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ প্রথমে ভিএআরের সহায়তা ছাড়াই ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ঘটনাটি পর্যালোচনা করে তার সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। ফলে গোলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ফুটবল সমর্থক দাবি করেছেন, একই ম্যাচে আরও কঠিন কিছু ট্যাকলের ঘটনায় রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে দিয়েছিলেন। তাই উইলিয়ামসের গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

যদিও ফিফার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে আক্রমণকারী দলের ফাউল প্রমাণিত হলে সেই গোল বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে বিতর্ক থাকলেও নিয়মের দিক থেকে রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে এবং স্পেনকে গোল উদযাপন থেকে বঞ্চিত হতে হয়।