বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২০:১৬, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ছবি-ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা

অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ছবি-ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ছবি-ভিডিও ধারণ এবং অনুমোদন ছাড়া তা প্রকাশ বা প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার। আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বন্দরের নিরাপত্তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর স্থাপনা নিরাপত্তা কোড (আইএসপিএস) অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে।

 

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের জন্য বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনাকে সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস ও পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না।

 

একই সঙ্গে বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নজরদারি ও যোগাযোগব্যবস্থা, জাহাজ ও পণ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার অননুমোদিত ছবি, ভিডিও, নকশা বা দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে কেপিআই, সংরক্ষিত এলাকা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমতিবিহীন কার্যক্রম কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।