বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয় থেকে আরও খবর

সমসাময়িক বাংলাদেশ: অর্থনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কার

সমসাময়িক বাংলাদেশ: অর্থনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কার

​​​​​​​বাংলাদেশ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, প্রশাসন ও জবাবদিহিতার কাঠামোকে নতুন করে সাজানোর প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল সুশাসন, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি দমন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবিধান, নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন গঠিত হয় এবং এসব কমিশন একাধিক সুপারিশ দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সমাজবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সমাজবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি মানবসমাজের গঠন, জ্ঞান উৎপাদন, শ্রমবাজার ও সম্পর্কের ধরনকেও আমূল বদলে দিচ্ছে। এই প্রযুক্তি এমন এক গতিতে সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রবেশ করছে যে এর প্রভাব বোঝার জন্য প্রথাগত জ্ঞানচর্চার পদ্ধতিগুলো যথেষ্ট নয়।

ফল নিয়ে হতাশা নয়,  বাস্তবতা উপলব্ধি জরুরি

ফল নিয়ে হতাশা নয়,  বাস্তবতা উপলব্ধি জরুরি

​​​​​​​এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে হতাশা, শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ এবং সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাৎক্ষণিক আবেগের কারণে অনেকে অনেকভাবে বিষয়টাকে ব্যাখা করার চেষ্টা করছেন।

ডিজিটাল পর্দায় বন্দি শিশুদের শৈশব

ডিজিটাল পর্দায় বন্দি শিশুদের শৈশব

শৈশব, আমাদের জীবনের সবচেয়ে মধুর এবং স্মৃতির পাতার এক উজ্জ্বল সময়। এই সময়ে কাটানো দিনগুলোর গুরুত্ব আমাদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু আমাদের নতুন প্রজন্ম কি তাদের শৈশবকে প্রবীণদের মতো স্মরণীয় করে তুলতে পারছে? নাকি আধুনিকতার আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে তাদের শৈশব?

কৃষক কার্ড: ডিজিটাল পরিচয়ে কৃষকের ক্ষমতায়ন
কৃষক কার্ড: ডিজিটাল পরিচয়ে কৃষকের ক্ষমতায়ন

​​​​​​​বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। কৃষির টেকসই উন্নয়ন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি। যা দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্যাস সংকট: দেশের উন্নয়নের পথে নীরব এক বাধা
গ্যাস সংকট: দেশের উন্নয়নের পথে নীরব এক বাধা

​​​​​​​বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে রান্নাবান্না সব ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার অপরিহার্য। আবার একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। মৌলিক চাহিদার মধ্যে সর্বপ্রথম চাহিদা হলো খাদ্য। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেটা মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক কৌশল ও কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ

প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক কৌশল ও কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ

ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা এবং কর্মপদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর নির্ভরশীল। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এমন কৌশল অবলম্বন করে, যা নৈতিকতার বাইরে গিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন অসদাচরণ ও অনৈতিক নীতিকে গ্রহণ করে। বিশেষ করে, যখন কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেন, তখন কিছু প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা বিদায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করা, কর্মরত কর্মকর্তাদের তার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা, এমনকি তার অবদান ও ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করাও প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রজন্মের ব্যবধান: মূল্যবোধের সংঘাত নাকি নতুন দিগন্তের সূচনা?

প্রজন্মের ব্যবধান: মূল্যবোধের সংঘাত নাকি নতুন দিগন্তের সূচনা?

প্রজন্মের ব্যবধান—এই দুটি শব্দ আমাদের সমাজে আজকাল বহুল প্রচলিত একটি ধারণা, যা কেবল বয়সের পার্থক্যকে বোঝায় না, বরং চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতাকেও নির্দেশ করে। একসময় দাদা-দাদি, বাবা-মা এবং সন্তানরা এক ছাদের নিচে বাস করতেন, যেখানে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের তারুণ্যের মধ্যে এক ধরনের অলিখিত সমঝোতা বিরাজ করত। কিন্তু আধুনিক বিশ্বায়িত এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে এ চিত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রজন্মের ব্যবধানকে কি কেবল একটি মূল্যবোধের সংঘাত হিসেবে দেখা উচিত, নাকি এটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে—এই প্রশ্নটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে গুণগত শিক্ষা একটি নীরব বিপ্লবের সূচনা

পার্বত্য চট্টগ্রামে গুণগত শিক্ষা একটি নীরব বিপ্লবের সূচনা

​​​​​​​বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা একটি ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত ছিল। বহুজাতিক, বহুভাষিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ এই অঞ্চলটি রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক জটিলতার কারণে যুগের পর যুগ উন্নয়নের মূলধারার বাইরে থেকে গেছে।

একটি ব্যাংক কীভাবে ভালো গ্রাহক পেতে পারে

একটি ব্যাংক কীভাবে ভালো গ্রাহক পেতে পারে

বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং খাত এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, গ্রাহকের চাহিদা এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ। এখন আর শুধু গতানুগতিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয়। বর্তমান সময়ে গ্রাহকের চাওয়া দ্রুত, নিরাপদ এবং স্বনির্ভর সেবা, যা তাদের দ্রুত লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, তারা এমন ব্যাংককে পছন্দ করে যারা অন্য সবার তুলনায় একটু হলেও ভিন্ন।

দহনশীল ভবিষ্যৎ: জলবায়ু সংকট এবং বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা

দহনশীল ভবিষ্যৎ: জলবায়ু সংকট এবং বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা

​​​​​​​‘অ্যানথ্রোপোসিন’ শব্দটি নিছক একটি নতুন ভূতাত্ত্বিক যুগের সূচক নয়, বরং এটি মানবজাতি এবং প্রকৃতির মধ্যে আধুনিক সম্পর্কের এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন। এই যুগ মানুষের কর্মকাণ্ডের দ্বারা পৃথিবীর ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া এবং বাস্তুতন্ত্রে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে ‘মানবজাতি’ কোনো একক, অভিন্ন সত্তা নয়। বরং প্রশ্নটি হলো কোন মানুষ? কোন শ্রেণি? কার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা? এই প্রশ্নগুলোই অ্যানথ্রোপোসিন সমাজতত্ত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে, যা ২০১০-এর দশকে বিকশিত হয় এবং এর প্রভাবশালী তাত্ত্বিকদের মধ্যে আন্দ্রেয়াস মাল্ম ও জেসন ডব্লিউ. মুর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই তাত্ত্বিকরা আমাদের বুঝতে সাহায্য করেন যে, জলবায়ু সংকট নিছক পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের সমাজ, অর্থনীতি এবং ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।