বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২০:৩৮, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিএমডব্লিউ ও ইসুজু ট্রাক জব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিএমডব্লিউ ও ইসুজু ট্রাক জব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিএমডব্লিউ ও ইসুজু ট্রাক জব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহূত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে কনটেইনারে বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার, একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির অর্ধাংশ এবং পাঁচটি ইসুজু ট্রাকের হাফ-কাট আনার ঘটনা শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআর জানায়, চট্টগ্রামের হালিশহরের মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি থেকে চালানটি আমদানি করে। চালানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল চট্টগ্রামের আমিন সিঅ্যান্ডএফ (প্রাইভেট) লিমিটেড।

চালানটির কাগজপত্রে বিভিন্ন ব্যবহূত গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘোষণা দেওয়া হলেও কায়িক পরীক্ষায় এর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। কনটেইনার খুলে দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার সম্পূর্ণ নকডাউন অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটি ২০০৯ সালের ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’ মডেলের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ইঞ্জিন ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।

এ ছাড়া ২০১৬ সালের মডেলের প্রায় তিন হাজার সিসি ক্ষমতার বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ বা হাফ-কাট পাওয়া যায়। একই চালানে ঘোষণা-বহির্ভূত পাঁচটি ইসুজু ট্রাকের হাফ-কাটও ছিল। এসব ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দার ধারণা, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে আমদানি করে দেশে এনে পরে সেগুলো পুনঃসংযোজন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, চেসিস ও ভিআইএন নম্বর এবং ইঞ্জিনের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রকৃত মূল্য ও প্রযোজ্য শুল্ককর নির্ধারণের কাজ চলছে। এসব যাচাই শেষে ‘কাস্টমস অ্যাক্ট, ২০২৩’ অনুযায়ী, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।