মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ১৯:০৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:০৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দীঘিনালায় বিদ্যুত্ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

দীঘিনালায় বিদ্যুত্ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

এরশাদ আলী

‘মিটারে সমস্যা আছে’, ‘রিচার্জ মিটার করে দেব’, ‘রিডিং কমিয়ে দেব’—এমন নানা কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা বিদ্যুত্ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিটার লক করে দেওয়া কিংবা বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। উপজেলার করল্যাছড়ি এলাকার একাধিক গ্রাহক এসব অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিদ্যুত্-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান কিংবা মিটারে সুবিধা করে দেওয়ার কথা বলে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে নগদ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

করল্যাছড়ি এলাকার বাসিন্দা মিলনের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে বিদ্যুত্ অফিসের লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে মিটারে সমস্যা রয়েছে বলে জানান। সমস্যা সমাধানের কথা বলে তার কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা। প্রায় এক মাস পর আবারও তার বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

মিলনের দাবি, পরে তাকে অবৈধভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিদ্যুত্ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি ‘মীমাংসা’র নামে তার কাছ থেকে আরও ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

মিলন বলেন, ‘আগে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে সংযোগ কেটে দিয়ে অফিসে নিয়ে যায়। মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সেখানে ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়।’

একই এলাকার আরেক গ্রাহক মনির হোসেনের অভিযোগ, বিদ্যুত্ ব্যবহারের বিষয়ে তাকে রিচার্জ মিটার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ‘সমঝোতা’র কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর মিটারের রিডিং কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মনির হোসেন বলেন, ‘রিচার্জ মিটার করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। পরে রিডিং কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে আবারও টাকা নেয়। সরকারি সেবা পেতে যদি এভাবে টাকা দিতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

 

অভিযোগ কি শুধু দুজনের?

ভুক্তভোগীদের দাবি, করল্যাছড়ি এলাকায় আরও কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকেও একই কায়দায় টাকা নেওয়া হয়েছে। কারও মিটার নিয়ে সমস্যা দেখানো হয়েছে, কারও কাছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ভয় দেখানো হয়েছে। আবার কারও মিটারের রিডিং কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

 

ক্যামেরা দেখেই উঠে গেলেন কর্মকর্তা:

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে দীঘিনালা উপজেলা বিদ্যুত্ অফিসে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলী প্রথমে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদকের হাতে ক্যামেরা দেখে তিনি সেখান থেকে উঠে চলে যান। পরে অবশ্য তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হন এবং গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে এরশাদ আলীর বক্তব্য, বিষয়গুলো যাচাই না করে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, মিটারের তথ্য এবং গ্রাহকদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

তদন্তের দাবি গ্রাহকদের:

বিদ্যুত্ একটি অপরিহার্য সরকারি সেবা। ফলে মিটার দেওয়া, সংযোগ চালু রাখা কিংবা বিল-রিডিং সংশোধনের মতো সেবার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তা বা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটলে তা সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, বিদ্যুত্ অফিসের নথি, মিটার সংক্রান্ত তথ্য, সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অভিযোগ এবং অর্থ লেনদেনের বিষয় তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।

 

তারা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।