কলাপাড়ায় জেলে কার্ড তালিকা যাচাই-বাছাই ঝুলে আছে বছরের পর বছর
কলাপাড়ায় জেলে কার্ড তালিকা যাচাই-বাছাই ঝুলে আছে বছরের পর বছর
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৮ হাজার ৩০৫ জন কার্ডধারী জেলে রয়েছেন। যার মধ্যে অন্তত আট হাজার প্রকৃত জেলে নন। আবার প্রকৃত শত শত জেলে রয়েছেন যারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে অপেশাধারী এই বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম জেলেদের তালিকায় থাকায় নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তাসহ বিশেষ প্রণোদনা প্রকৃত জেলেদের ভাগ্যে জুটছে না। এই তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত জেলেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সঠিক একটা তালিকা তৈরির কাজও বছরের পর ঝুলে আছে। পুরোনো তালিকাভুক্ত ১৮ হাজার ৩০৫ জনের মধ্য থেকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এই আট হাজার জেলে কার্ড বাতিল করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে এর আগে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে প্রকৃত সমুদ্রগামী জেলেরা সরকারের দেওয়া সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকছেন। এ নিয়ে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রকৃত জেলেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। এতে প্রণোদনার চাল বিতরণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
মত্স্য অফিস ও মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত জেলেদের
মধ্য থেকে পেশায় পরিবর্তন, মারা গেছেন, এলাকা ত্যাগ করেছেন ও প্রকৃত জেলে নয়—এমন
কার্ডধারীর নাম বাতিল করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে অন্তত তিন বছর আগে। একই সঙ্গে
নতুন করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আরো প্রায় ১১ হাজার নতুন আবেদন যাচাই-বাছাই
প্রক্রিয়াধীন। তবে কবে নাগাদ এই তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ হচ্ছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
তালিকাভুক্ত না হওয়ায় জেলে কার্ড না থাকায় সাগর-নদীতে মাছ ধরা প্রকৃত হাজারো জেলে
বছরের পর বছর মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালীন সময় সরকারের বিশেষ সহায়তা ভিজিএফএর খাদ্য
সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ নিয়ে প্রকৃত জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। তারা
মানববন্ধন, প্রতিবাদসহ বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন করেছেন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা যাচাই-
বাছাই কমিটির উদ্যোগে নদী কিংবা সাগরে মাছ আহরণকারী প্রকৃত জেলেদের একটি
তালিকা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে আবেদন করা নতুন ১১ হাজারের মধ্যেও অসংখ্য ভুয়া নাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন পেশাদার জেলেরা। প্রকৃত জেলেদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ ও ভুয়া নাম বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন সময় জেলেরা মানববন্ধন করেছেন। লিখিত অভিযোগ করেছেন। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলে চাল বিতরণকালে সমাবেশও করেছেন।
কুয়াকাটার জেলে হানিফ মাঝি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা ফাইনাল করার আগে
একটি খসড়া কপি প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সামনে টানিয়ে দেওয়া দরকার। তাহলে
যদি কোনো রদবদল থাকে তা স্থানীয় জেলেরা জানাতে পারবেন।
সদ্য বদলি হওয়া কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা অপু সাহা এর আগে
জানিয়েছিলেন, তালিকা যাচাই-বাছাই করে সঠিক জেলেদের নাম সংবলিত একটি তালিকা
তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে পুরোনো তালিকা থেকে অন্তত আট হাজার নাম বাদ পড়বে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা। পেশায় পরিবর্তন, মারা গেছেন ও এলাকা ত্যাগ করেছেন ও প্রকৃত জেলে নয় এমন নামগুলো বাদ পড়তে যাচ্ছে। এছাড়া নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রায় ১১ হাজার আবেদন নতুন পাওয়া গেছে। প্রকৃত জেলেদের নামে জেলে আইডি কার্ড হয় এই
কাজটি তারা করছেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, সাগর নদীতে মাছ ধরার
নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের দেওয়া বিশেষ খাদ্য সহায়তার চাল প্রকৃত জেলেদের বিতরণ নিশ্চিতে
যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।