দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান সামরিক ক্যাম্পমুক্ত করার দাবি
জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি
উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন জনপদ বৃহত্তর দিনাজপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান (বড়মাঠ) সামরিক ক্যাম্পের ব্যবহার থেকে মুক্ত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও সংরক্ষণের দাবি উঠেছে।
এ দাবিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘দিনাজপুর বড়মাঠ রক্ষা কমিটি’।
কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ ও সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকার নেতৃত্বে স্থানীয় সাধারণ জনগণের একটি প্রতিনিধিদল দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান কেবল একটি খেলার মাঠ নয়, দীর্ঘদিন ধরে এটি দিনাজপুরবাসীর ক্রীড়া চর্চা, এশিয়ার অন্যতম বৃহত্ ঈদের জামাত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। মাঠটির সঙ্গে দিনাজপুরের মানুষের জীবনযাত্রা, শৈশব, স্মৃতি ও ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্মারকলিপিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক ও আবেগঘন সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের পর তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সে সময় কলেজের মাঠে ক্রিকেট খেলা, অডিটোরিয়ামে নাটকে অভিনয় এবং স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে তার গড়ে ওঠা নিবিড় যোগাযোগ দিনাজপুরবাসীর কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
এ ছাড়া স্মারকলিপিতে রাষ্ট্রপতির পারিবারিক ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তার মাতুল আবু জাহেদ ইবনে ইউসুফ ‘দিনাজপুর জেলা স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদ’-এর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে রাষ্ট্রপ্রধানের পাশাপাশি দিনাজপুরের মানুষ তাকে নিজেদের আপনজন হিসেবে মনে করেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে দিনাজপুরবাসীর পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রপতির স্মৃতিবিজড়িত সম্পর্ক বিবেচনা করে মাঠটিকে সামরিক ব্যবহার থেকে মুক্ত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাঠটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রেখে এর ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় যথাযথ পরিবেশ বজায় রেখে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর বড়মাঠ রক্ষা কমিটির শামীম আহাম্মেদ ও দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঐতিহাসিক এই মাঠটি জনসাধারণের জন্য সংরক্ষণ ও উন্মুক্ত রাখার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।