বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাভার, আশুলিয়া সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৯:০৫, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আশুলিয়ায় তিন নারীসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

আশুলিয়ায় তিন নারীসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

আশুলিয়ায় তিন নারীসহ ৪ মরদেহ উদ্ধার

সাভারের-আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন নারীসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুই নারীকে হত্যার প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরেক নারীর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ঘটনায় এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের টংগাবাড়ী বঙ্গবন্ধু রোডের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় হাজি খালেকের ভাড়া বাড়ি থেকে আঁখি আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়ার সন্দেহের জেরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জাহিদ হাসানের (২৭) বিরুদ্ধে। এঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে জাহিদ হাসানকে আটক করে পুলিশ।

নিহত আঁখি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। গ্রেপ্তার জাহিদ হাসান একই জেলার নালিতাবাড়ী থানার সিটপাড়া গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে।

এর আগে বুধবার রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামে এক নারীর বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি দুবাই প্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী। তাদের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা এলাকায়। প্রায় দুই মাস আগে তারা মরিচকাটার ওই নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস শুরু করেন।

নিহতের স্বজনরা জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় পানির ট্যাংক দেখতে ছাদে যান রোকসানা। দীর্ঘ সময় নিচে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। পরে ছাদে তার মরদেহ পাওয়া যায়। 

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন জানান, রোকসানার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, আর্থিক লেনদেন ও পরকীয়াসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

একই দিন বিকেলে শিমুলিয়ার পাগলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় দেলোয়ার হোসেন দেওয়ানের ভাড়া বাড়ি থেকে তানিয়া খাতুন নামে এক নারী পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি স্থানীয় পলমল গ্রুপের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। 

নিহত তানিয়া খাতুন সাতক্ষীরা সদর থানার বাগডাঙ্গা এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে।  তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন।

এ ছাড়া বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার কাজী মোঃ আব্দুল আউয়ালের ভাড়া বাসা থেকে তরিকুল (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার স্ত্রী মরিয়ম (৩২) সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তাকে বাসায় রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা দেন। দুপুরে ফিরে এসে ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচানো অবস্থায় তরিকুলের মরদেহ দেখতে পান।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, চার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুইটিকে নিশ্চিতভাবে হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে। আরেকটি ঘটনায় হত্যার আশঙ্কা রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। চারটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গৃহবধূ আঁখি আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী জাহিদ হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে। পৃথক ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।