বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাকিব মামুন, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ১৬:২৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

খাগড়াছড়িতে স্বাক্ষরের জটে তিন মাস ধরে থমকে নামজারি

খাগড়াছড়িতে স্বাক্ষরের জটে তিন মাস ধরে থমকে নামজারি

খাগড়াছড়ি

জমি কিনেছেন, দামও পরিশোধ করেছেন। উপজেলা ভূমি অফিসে শুনানি ও যাচাই-বাছাইও শেষ হয়েছে। এরপরও নামজারি সম্পন্ন করতে পারছেন না অনেকে। কারণ, ফাইল আটকে আছে পরবর্তী অনুমোদনের অপেক্ষায়। আগে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন হবে, নাকি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের—এই প্রক্রিয়াগত জটিলতায় গত জুলাই মাস থেকে তিন মাস ধরে আটকে আছে নামজারির বহু মামলা।

এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ছে। কেউ জমি বিক্রি করতে পারছেন না, আবার কেউ বায়না কিংবা পুরো টাকা পরিশোধ করেও জমির বৈধ হস্তান্তর ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারছেন না। দীর্ঘসূত্রতায় অনেকে আর্থিক ও পারিবারিক নানা সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত উপজেলা ভূমি অফিসে শুনানি ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে জমি হস্তান্তরের ফাইল পরবর্তী অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। আগে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ করে ফাইল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে পাঠানো হতো। পরিষদের মাসিক সভায় অনুমোদনের পর ফাইল ফের জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আসত। এরপর পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে নামজারি বা রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন হতো।

তবে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদের মধ্যে কোন পর্যায়ে কার অনুমোদন আগে প্রয়োজন—এ নিয়ে প্রক্রিয়াগত জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে শুনানি ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়া অনেক ফাইলও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে আছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর ৬৪(১)(ক) ধারায় বলা হয়েছে, পরিষদের পূর্বানুমোদন ছাড়া জেলার আওতাধীন জায়গা-জমি ইজারা, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। ফলে পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুমোদন জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি ধাপ।

তবে পরিষদের অনুমোদনের আগে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন কি না, নাকি উপজেলা ভূমি অফিসের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সরাসরি পরিষদে ফাইল পাঠানো হবে—এ বিষয়টিই এখন জটিলতার কেন্দ্রে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন জমির ক্রেতা-বিক্রেতা বলেন, কয়েক মাস ধরে নামজারির ফাইল আটকে থাকায় তারা জমি নিয়ে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কেউ জমি বিক্রির চুক্তি করেও তা সম্পন্ন করতে পারছেন না। আবার কেউ জমি কেনার জন্য টাকা পরিশোধ করেও বৈধ কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের অভাবে সাধারণ মানুষকে যেন ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখপাত্র ও সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অবগত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে সেবা পান এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে কাজ করতে হয়। এতে অনেক সময় কিছুটা সময় লাগে এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি হতে পারে। জেলা পরিষদ নতুন করে গঠিত হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের কনসার্ন প্রয়োজন। কীভাবে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও কম সময়ে নামজারি সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির মালিকানা ও হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন দীর্ঘসূত্রতা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। কার স্বাক্ষর আগে—জেলা প্রশাসক নাকি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান—এ প্রশ্নের দ্রুত নিষ্পত্তি করে আটকে থাকা ফাইলগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।