বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা

প্রকাশ: ১৬:৪৬, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভোমরা বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে রাজস্ব আদায় ১১৪ কোটি টাকা

ভোমরা বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে রাজস্ব আদায় ১১৪ কোটি টাকা

ভোমরা বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে রাজস্ব আদায় ১১৪ কোটি টাকা

দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনের মধ্যেও গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ২০২ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ৩৭৫ টাকা ব্যয়ে ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন ভাঙা পাথর (ব্রোকেন স্টোন) আমদানি হয়েছে। আমদানি হওয়া পণ্য থেকে ১১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৪৬ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে ভোমরা কাস্টমস হাউস। কাস্টম হাউসের জনপ্রশাসন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

 

কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় সারা বছর এ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকায় ব্যবসায়ীরা পাথরের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য আমদানিতে আগ্রহী।

 

বন্দরের আমদানিকারক সংগঠনের নেতারা জানান, দেশের ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, কালভার্ট, সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণ ও পুনর্র্নিমাণকাজে এ পাথর ব্যবহার করা হয়। জেলায় সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতীয় পাথরের গুণগত মান ভালো হওয়ায় চাহিদা বেশি। আমদানীকৃত পাথর দিয়ে আধুনিক ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করেন ঠিকাদারেরা।

 

ভোমরা কাস্টম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত বন্দর হিসেবে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোমরা স্থলবন্দরের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভোমরা বন্দর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং নেপাল ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্য সেবা প্রদান করতে সক্ষম। সে কারণে এ বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য হ্যান্ডেলিং হচ্ছে এবং রাজস্ব অর্জন অব্যাহত রয়েছে।

 

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হাসান জানান, ভোমরা স্থলবন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিচালিত হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউস হিসেবে ঘোষণা করায় সব প্রকার পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও ডলার-সংকটের সময় উচ্চমূল্যের পণ্য আমদানি সাময়িকভাবে কমলেও পাথর আমদানি বাণিজ্য এ বন্দরের কার্যক্রম সক্রিয় রেখেছে। বন্দরের অগ্রগতি ধরে রাখতে অবশিষ্টাংশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার বাস্তবায়ন বর্তমানে চলমান।