নাঃগঞ্জে এড. সাখাওয়াতের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ
অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং অ্যাডভোকেট শেখ আনজুম আহমেদ রিফাত।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু স্বাক্ষরিত নোটিশে তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আনজুম আহমেদ রিফাত।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে প্রবেশ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। এ ধরনের আচরণের কারণ জানতে চাইলে তাঁরা তাঁর প্রতি মারমুখী হয়ে ওঠেন।
এ ছাড়া ঘটনার দিন অনলাইন গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান দাবি করেন, তাঁরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন এবং পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে চলে যান। নোটিশে আনোয়ার প্রধানের এ বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার পর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সেই আহ্বানে সাড়া দেননি।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাঁর সরকারি চেম্বার প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা এবং তাঁকে ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু নোটিশে উল্লেখ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এ অবস্থায় নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দুই নেতাকে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।