বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬:৪০, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ, চার মাস পর বীথীর মৃত্যু

সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ, চার মাস পর বীথীর মৃত্যু

বীথী আক্তার

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বীথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন।

 

দীর্ঘ চার মাস শারীরিক নানা জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বীথীর স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম।

 

বীথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীথীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিত্সক ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিত্সক অরবিন্দের মাধ্যমে তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়।

 

অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বীথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। তীব্র পেটব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে তার অন্ত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিত্সা দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, এ সময় বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিত্সা নিতে হয়েছে তাকে।

 

দীর্ঘদিন চিকিত্সাধীন থাকার পর ধীরে ধীরে বীথীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা জানান, একসময় তার ওজন ছিল ৬১ কেজি। অসুস্থতার মধ্যে তা কমে মাত্র ৩৮ কেজিতে নেমে আসে।

 

এদিকে সন্তান জন্মের পরও প্রায় চার মাস নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না বীথী। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় তার ছোট্ট সন্তান।

 

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান বীথী। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, “বীথীর মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও আমি বীথীর বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানকে দুইবার দেখে এসেছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”

 

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিত্সকদের অবহেলার কারণেই বীথীর পেটে গজ রয়ে যায়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ডা. তামান্না, ইন্টার্ন চিকিত্সক অরবিন্দ কিংবা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাত্ক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বীথীর পরিবার।