বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

​​​​​​​নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২:৪৯, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সৌরবিদ্যুতে ২০ বছরে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা লাভের হিসাব

সৌরবিদ্যুতে ২০ বছরে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা লাভের হিসাব

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় স্থাপিত ৩০ কিলোওয়াট পিকের (কেডব্লিউপি) একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০ বছরে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা হিসাব করা হয়েছে।

প্রাথমিক বিনিয়োগ, ইনভার্টার পরিবর্তন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাদ দিয়ে এ লাভের হিসাব করা হয়েছে। বিদ্যুতের প্রচলিত ট্যারিফ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিবছর সর্বোচ্চ এক শতাংশ হারে কমে যাওয়ার বিষয়টিও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ ডিপিডিসির স্টলে এই সোলার সিস্টেমের হিসাব উপস্থাপন করা হয়।

হিসাব অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়েছে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে সৌর প্যানেল কিনতে ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ২৫০ টাকা, ইনভার্টার কিনতে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ টাকা এবং মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ক্যাবল, নেট মিটার, সার্জ প্রটেকশনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা।

হিসাব অনুযায়ী, সোলার সিস্টেমের বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে। ২০ বছর মেয়াদে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসাব করা হয়েছে ২২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

এর মধ্যে প্রাথমিক বিনিয়োগ ১৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১১তম বছরে ইনভার্টার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিবর্তনে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ বছরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিবছর ২৪ হাজার টাকা করে ব্যয় বিবেচনা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের হিসাব করতে জুন ২০২৬ সালের আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১২ টাকা ২১ পয়সা এবং জুন ২০২৬ থেকে প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ৬৩ পয়সা ট্যারিফ বিবেচনা করা হয়েছে। এ হিসাবে ২০ বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপরীতে মোট ৮১ লাখ ৬৫ হাজার ২৯৩ টাকার বিদ্যুৎ বিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে ২০ বছরে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্থাপন, ইনভার্টার পরিবর্তন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

বিল সাশ্রয় থেকে এই ব্যয় বাদ দিলে ২০ বছরে সম্ভাব্য নিট লাভ দাঁড়ায় ৫৮ লাখ ৬৯ হাজার ২৯৩ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগ করে দীর্ঘ মেয়াদে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এভাবে সোলার সিস্টেম স্থাপন করলে প্রথম তিন থেকে চার বছরেই বিনিয়োগ উঠে আসবে।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) মাহফুজুল হাসান বলেন, কেউ যদি ৩০ কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেম বসাতে চায় তাহলে তার প্রারম্ভিক বিনিয়োগ তিন-চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে। এটা নেট মিটারিংয়ের জন্য। আবার কেউ যদি হাইব্রিড মডেলে সিস্টেম বাস্তবায়ন করতে চায় তাহলে তার খরচ আরও বেশি হবে। কারণ তখন ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপন করতে হবে। এটার ক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় বছর সময় লাগবে খরচ উঠে আসতে।

তিনি বলেন, আমরা একটি প্রজেক্টের উদাহরণ দেখিয়েছি, সেখানে ২০ বছরে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা লাভ হবে গ্রাহকের।