‘ওরা ভুয়া, ওরা ভুয়া’
নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের ধাওয়ায় পালালেন শ্রমিকনেতারা
শেয়ার বিজ
‘ওরা ভুয়া, ওরা ভুয়া’ স্লোগানটি শুধু কয়েকজন শ্রমিকনেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল, নাকি ফতুল্লার শ্রমিক আন্দোলনের ভেতরে জমে থাকা গভীর অসন্তোষের বিস্ফোরণ? ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন যেসব নেতা, তাদেরই ধাওয়া করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছেন আন্দোলনকারীদের একটি অংশ। শ্রমিকনেতা হাফিজুল ইসলাম, সেলিম মাহবুবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে স্লোগান, পরে ধাওয়া। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান তারা। শ্রমিকদের এই আচরণে আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একদিকে শ্রমিকের পকেটে টান, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা নিয়ে মালিকদের উদ্বেগ। মাঝখানে শ্রমিকদের ক্ষোভকে পুঁজি করে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের প্রতি শ্রমিকদের আস্থা কতটুকু, আর আন্দোলনের প্রকৃত দাবিগুলোই বা কতটা প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনা তাই কেবল একটি সড়ক অবরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব এবং মজুরি কাঠামোর বাস্তবতা নিয়ে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুই ঘণ্টা লিংক রোড অবরোধ: সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হতে থাকে ফতুল্লার শিল্পাঞ্চল। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবআইল কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস, আবির ফ্যাশন, আজাদ-রিফাত ডাইংসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এই আন্দোলনে অংশ নেন। তাদের প্রধান দাবি, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। দাবি আদায়ে সড়কে অবস্থান নেন তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
সড়কের দুই পাশে তৈরি হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক যাত্রীকে বিকল্প পথে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। আশপাশের সড়কেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
নেতাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ক্ষোভ কেন: এই আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা শ্রমিকনেতাদের প্রতি ধাওয়া। শ্রমিকনেতা হাফিজুল ইসলাম, সেলিম মাহবুবসহ কয়েকজনের আহ্বানে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তাদেরই একটি অংশের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়। ‘ওরা ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাদের দিকে ধেয়ে যান বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল ছাড়তে বাধ্য হন ওই নেতারা।
এখানেই দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শ্রমিকদের দাবিতে আন্দোলন হলে সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন কারা? যারা শ্রমিকদের হয়ে কথা বলবেন, তাদের প্রতি শ্রমিকদের আস্থা না থাকলে আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব কতটা কার্যকর হবে?
শ্রমিকদের এই প্রতিক্রিয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা, সাংগঠনিক বিরোধ, অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ কিংবা আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ—কোন বিষয়টি প্রধান ভূমিকা রেখেছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও নেতাদের বক্তব্য প্রয়োজন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শ্রমিকদের একটি অংশের কাছে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্বের সংকট নতুন কিছু নয়। অনেক সময় শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি সামনে থাকলেও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, সংগঠনগুলোর পারস্পরিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা আন্দোলনকে দুর্বল করে দেয়। ফতুল্লার ঘটনাতেও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
৩০ হাজার টাকার দাবি কেন: শ্রমিকদের বক্তব্য, বর্তমান বাজারদরে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, চাল-ডাল, তেল, সবজি, চিকিৎসা, যাতায়াত ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বেড়েছে। অথচ সেই অনুপাতে আয় বাড়েনি। মাস শেষে বেতন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই অর্থ শেষ হয়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে ধারদেনা করেও সংসার চালাতে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানিতে শ্রমিকদের অবদান থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি তাদের কাছে শুধু বেতন বৃদ্ধির দাবি নয়, বরং টিকে থাকার প্রশ্ন।
তবে ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির পাশাপাশি কয়েকটি বিষয় পর্যালোচনা জরুরি। বর্তমান মজুরি কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডের শ্রমিক কত টাকা পাচ্ছেন, তাদের হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা থাকছে, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক কীভাবে দেওয়া হচ্ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মজুরির ব্যবধান কতটা—এসব তথ্য ছাড়া শ্রমিকদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
শ্রমিকদের দাবিকে বাস্তবসম্মতভাবে মূল্যায়ন করতে হলে একটি পরিবারে ন্যূনতম মাসিক ব্যয়ের হিসাবও সামনে আনতে হবে। শুধু মালিকের উৎপাদন ব্যয় নয়, শ্রমিকের জীবনধারণের ব্যয়ও শিল্পের অর্থনৈতিক হিসাবের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
মালিকপক্ষের উসকানির অভিযোগ: অন্যদিকে মালিকপক্ষের অভিযোগ, কয়েকজন শ্রমিকনেতার নেপথ্য উসকানিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। তাদের দাবি, শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কিছু ব্যক্তি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য কিংবা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। কারা উসকানি দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন, কোন স্বার্থে আন্দোলনকে উত্তপ্ত করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যায়নি। ফলে মালিকপক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এখানে আরও একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি যদি বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে শুধু উসকানি দিয়ে ব্যাখ্যা করা কতটা যৌক্তিক? আবার শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভকে ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংকটে নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্প: নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান নিট পোশাক উৎপাদনকেন্দ্র। ফতুল্লা, পঞ্চবটি ও বিসিক শিল্পাঞ্চলে অসংখ্য পোশাক ও সহযোগী শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জীবিকা যেমন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতির বড় অংশও নির্ভরশীল এই শিল্পের ওপর।
কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে শিল্পটি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্যাসের স্বল্পচাপ, বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আদেশের চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা শিল্পোদ্যোক্তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ফতুল্লা ও পঞ্চবটি এলাকায় গ্যাসসংকটের কারণে অনেক কারখানাকে উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে অর্ডার ও বাজার ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হবে।
কিন্তু এর বিপরীত বাস্তবতাও রয়েছে। শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত নিচে নামলে উৎপাদনশীলতা ও কর্মপরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অসন্তুষ্ট শ্রমিক নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন। ফলে মালিকদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির প্রশ্নকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক সমঝোতা।
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ: অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জেলা পুলিশের সদস্যরা। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন তারা।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি। সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে পুলিশ। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও শ্রমিকদের অসন্তোষ কতটা প্রশমিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সড়ক থেকে শ্রমিকেরা সরে গেলেই তাদের মজুরি ও জীবনযাত্রার সংকটের সমাধান হয়ে যায় না।
সামনে তিনটি বড় প্রশ্ন: ফতুল্লার এই ঘটনার পর সামনে এসেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রথমত, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রশাসন কবে কার্যকর আলোচনায় বসবে? শুধু আশ্বাস কিংবা সাময়িক সমঝোতায় এই অসন্তোষ দূর হবে না। প্রয়োজন বর্তমান মজুরি, বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব।
দ্বিতীয়ত, শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি কারা? যাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের একটি অংশ প্রকাশ্যে ‘ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছে, তাদের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে এই ঘটনা দিয়ে সব শ্রমিক সংগঠন কিংবা সংশ্লিষ্ট নেতাদের মূল্যায়ন করাও ঠিক হবে না। শ্রমিকদের মতামত, সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব এবং নেতাদের কর্মকাণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে? শুধু সড়ক অবরোধের পর পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যথেষ্ট নয়। শ্রমিকদের অভিযোগ শুনতে, মালিকপক্ষের বক্তব্য যাচাই করতে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর মধ্যস্থতা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে ফতুল্লার সোমবারের ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। শ্রমিকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে উপেক্ষা করলে তা বারবার সড়কে ফিরে আসতে পারে। আবার শ্রমিকদের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা কিংবা স্বার্থান্বেষী তৎপরতা চলতে থাকলে আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্যও বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, শ্রমিকের ন্যায্য দাবির পাশে দাঁড়ানোর মতো গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব কি শিল্পাঞ্চলে তৈরি হবে? মালিকপক্ষ কি শ্রমিকের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নেবে? আর প্রশাসন কি সংঘাতের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে সংঘাতের আগেই সমাধানের উদ্যোগ নেবে?
কারণ ‘ওরা ভুয়া’ স্লোগানে কয়েকজন নেতা এলাকা ছাড়তে পারেন, দুই ঘণ্টার অবরোধও একসময় উঠে যেতে পারে। কিন্তু শ্রমিকের পকেটে টান, সংসারের হিসাব আর বেঁচে থাকার লড়াই থেকে যাবে। সেই বাস্তবতার সমাধান না হলে ফতুল্লার শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষের আগুন আবারও জ্বলে উঠতে পারে।