সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

রামিসা রহমান

প্রকাশ: ২৩:৪৩, ২ নভেম্বর ২০২৬

ডিএসইর সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন

ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে বাদ অরগানোগ্রাম

ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে বাদ অরগানোগ্রাম

শেয়ার বিজ

পুঁজিবাজারের প্রধান অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো বা অরগানোগ্রাম ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ডিএসইর দীর্ঘদিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক দিক বিবেচনা করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে। সময়ের চাহিদা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিভাগ, জনবল ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসইসি এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি বিএসইসির আইন বিভাগে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ডিএসইর প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে গ্রহণের পর এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ডিএসইর এই উদ্যোগের পেছনে মূল যুক্তি হলো, একটি স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও লেনদেনের অধিকার পৃথক রাখার জন্য যে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত সাংগঠনিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকা অপরিহার্য নয়। অরগানোগ্রাম মূলত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, বিভাগীয় বিন্যাস, দায়িত্ব বণ্টন এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। সময়ের সঙ্গে ব্যবসার ধরন ও পরিচালন চাহিদা বদলালে এ কাঠামোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। কিন্তু এটি ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের অংশ হওয়ায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয় বলে মনে করছে ডিএসই।
গত ১৫ মার্চ ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম প্রথমে বিএসইসিকে এ বিষয়ে চিঠি দেন। পরবর্তী সময়ে সেই আবেদনের ধারাবাহিকতায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। ডিএসইর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, সাংগঠনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার বিষয় হওয়ায় এটি ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের মতো মৌলিক কাঠামোগত নথিতে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত রাখা যৌক্তিক নয়। বরং পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত নীতিমালার আওতায় অরগানোগ্রাম নির্ধারণ ও সংশোধনের সুযোগ থাকা উচিত।
ডিএসইর প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বাধা দূর হবে। বর্তমানে অরগানোগ্রামে পরিবর্তন আনতে হলে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের বিষয়টি সামনে আসে। এ প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন হওয়ায় সময় লাগে। ফলে কোনো নতুন বিভাগ গঠন, বিদ্যমান বিভাগের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি কিংবা আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবস্থাপনা পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্কিম থেকে অরগানোগ্রাম বাদ গেলে এ ধরনের পরিবর্তন পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ করে তুলনামূলকভাবে সহজে করা সম্ভব হবে।
তবে এ সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে, ডিএসই নিজের ইচ্ছামতো কোনো নিয়ন্ত্রক তদারকি ছাড়াই সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করতে পারবে। বরং ডিএসইর প্রস্তাব অনুযায়ী, অরগানোগ্রাম পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ নীতিমালার আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে কোম্পানি আইন, করপোরেট সুশাসন নীতিমালা এবং বিএসইসির প্রযোজ্য নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির বিষয়টিও বজায় থাকবে।
ডিমিউচুয়ালাইজেশন বা মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা এবং লেনদেন পরিচালনার অধিকারকে পৃথক করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। আগে স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা ও পরিচালনায় সদস্য ব্রোকারদের প্রভাব ছিল বেশি। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে মালিকানা কাঠামো এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যবস্থার মধ্যে পৃথক্করণ আনা হয়। এতে স্বার্থের সংঘাত কমানো, পেশাদার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা এবং বাজার পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
ডিএসইর যুক্তি, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমে এমন বিষয়গুলো থাকা উচিত, যেগুলো মালিকানা, পরিচালনা ও লেনদেনের অধিকার পৃথক রাখার মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কোন বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন বিভাগের অধীনে কোন ইউনিট থাকবে, কিংবা সময়ের প্রয়োজনে নতুন কোনো বিভাগ তৈরি করা হবে কি না—এসব বিষয় দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার অংশ। এগুলোকে স্কিমের অপরিবর্তনীয় বা কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে রাখলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নমনীয়তা কমে যায়।
ডিএসইর আবেদনে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের ৯.২.৩ ধারার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ওই ধারায় এক্সচেঞ্জের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে সর্বোত্তম সাংগঠনিক কাঠামো নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ডিএসইর মতে, সর্বোত্তম সাংগঠনিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হলে সেটিকে সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনের সুযোগ দিতে হবে। কারণ একটি স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম কেবল শেয়ার বা সিকিউরিটিজ লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাজার তদারকি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য প্রকাশ, বাজার উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারী সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রেও দক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে পুঁজিবাজারের কার্যক্রম দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। লেনদেন ব্যবস্থা, বাজার পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা, বিনিয়োগকারীদের তথ্যপ্রাপ্তি এবং ঝুঁকি শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে স্টক এক্সচেঞ্জের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও নতুন দক্ষতা ও বিশেষায়িত বিভাগের প্রয়োজন হতে পারে। কোনো একটি বিভাগকে পুনর্গঠন, নতুন ইউনিট চালু কিংবা একাধিক বিভাগের দায়িত্ব সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ডিএসইর মতে, অরগানোগ্রাম স্কিমের বাইরে থাকলে এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়ন সহজ হবে।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উত্তমচর্চার বিষয়টিও সামনে এনেছে ডিএসই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্টক এক্সচেঞ্জ সময়ের সঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে থাকে। বাজারের আকার, পণ্যের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার ভিত্তিতে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামোকে দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত রাখার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করার সুযোগ থাকা জরুরি। ডিএসই মনে করে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও এ ধরনের নমনীয়তা প্রয়োজন।
ডিএসইর আবেদনে দেশের অন্য স্টক এক্সচেঞ্জ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। ডিএসইর যুক্তি অনুযায়ী, সিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমে অরগানোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডিএসইর ক্ষেত্রেও সাংগঠনিক কাঠামোকে স্কিমের বাইরে রাখার যৌক্তিকতা রয়েছে। এ যুক্তির মাধ্যমে ডিএসই বোঝাতে চেয়েছে, অরগানোগ্রামকে ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের অংশ না রেখেও স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা ও পরিচালন কাঠামোর মৌলিক উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব।
একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ডিএসইর অবস্থান হলো, কোম্পানি আইন ও করপোরেট সুশাসন নীতিমালার আওতায় প্রতিষ্ঠানের অরগানোগ্রাম অনুমোদন, সংশোধন ও হালনাগাদ করার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদের থাকা উচিত। পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লক্ষ্য, আর্থিক সক্ষমতা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ করা হলে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা বাড়লেও জবাবদিহিতা কমে যাওয়ার কথা নয়।
তবে সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের হাতে থাকলে করপোরেট সুশাসনের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ অরগানোগ্রাম কেবল বিভাগ ও পদবির তালিকা নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বণ্টন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জড়িত। কোন বিভাগ কার কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, কোন কর্মকর্তার কী দায়িত্ব থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হবে—এসব বিষয় সঠিকভাবে নির্ধারণ করা না হলে ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ কারণে অরগানোগ্রাম স্কিম থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ডিএসইর অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিচালনা পর্ষদকে সাংগঠনিক পরিবর্তনের যৌক্তিকতা, সম্ভাব্য ব্যয়, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং কার্যক্রমের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং প্রযোজ্য অনুমোদন গ্রহণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। এতে একদিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
পুঁজিবাজারের বর্তমান বাস্তবতায় ডিএসইর কার্যক্রমে দক্ষতা ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য প্রকাশের মান উন্নত করা, বাজার কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন কোনো ঝুঁকি বা পরিচালন চাহিদা তৈরি হলে দ্রুত দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করতে পারা একটি স্টক এক্সচেঞ্জের সক্ষমতার অংশ।
অন্যদিকে শুধু অরগানোগ্রাম পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হলেই ডিএসইর পরিচালন দক্ষতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। পরিবর্তনগুলো বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে হচ্ছে কি না, দক্ষ জনবল নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন যথাযথ হচ্ছে কি না এবং নতুন কাঠামো বাজারের সেবা ও তদারকিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় বিভাগ বৃদ্ধি, দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি কিংবা প্রশাসনিক ব্যয় বেড়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দক্ষতা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বিএসইসির সম্মতির ফলে এখন ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইন বিভাগ ও মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের পর সংশোধনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ডিএসইর অরগানোগ্রাম স্কিমের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হবে। তবে সংশোধনের সুনির্দিষ্ট ভাষা, কার্যকর হওয়ার সময় এবং ভবিষ্যতে অরগানোগ্রাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন কোন নিয়ন্ত্রক শর্ত অনুসরণ করতে হবে, তা চূড়ান্ত নথিতে স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে বিএসইসির এই সম্মতি ডিএসইর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক জটিলতার কথা ডিএসই তুলে ধরছিল, তা দূর করার পথ তৈরি হয়েছে। এখন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কতটা আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুঁজিবাজারের উন্নয়ন শুধু লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর নির্ভর করে না; এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিশ্চিত করার সক্ষমতা।