শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা চেষ্টা রুখতে মাঠে বিএনপি
শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা চেষ্টা রুখতে মাঠে বিএনপি
সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শিল্পকারখানা রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দিনভর কারখানার সামনে অবস্থান ও পাহারার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কয়েকটি শিল্পকারখানার সামনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
এ সময় দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সারাদেশে গার্মেন্টশিল্পকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালের পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও গুপ্ত বাহিনীর লোকজন শ্রমিকদের ছদ্মবেশে তাঁদের সঙ্গে মিশে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং শিল্প খাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে বলে আমরা মনে করি। একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের নাশকতা ঠেকাতে আমরা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজপথে রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুর নির্দেশনায় শিল্প খাত রক্ষায় বিএনপি ও এর সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে কারখানায় ভাঙচুর কিংবা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক রয়েছি।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিকদের দাবিকে পুঁজি করে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হোক, তা আমরা চাই না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মাঠে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সতর্ক থাকব।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি গালিব মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছি। যারা ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনসম্মতভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ যত দিন চলবে, তত দিন আমরা মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। আমাদের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে কারখানায় নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
আশুলিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল,এখানকার শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলে শ্রমিক, মালিক, ব্যবসায়ীসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধান, কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসন, শিল্পমালিক, শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃদ্ধ ও অন্যান্ন অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আতাউর রহমান আতাল চিশতী, সহ সভাপতি আশুলিয়া থানা বিএনপি, ,তোজাম্মেল হোসেন ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, লুৎফর রহমান আহবায়ক আশুলিয়া থানা কৃষকদল, সাবেক মেম্বার খলিলুর রহমান সভাপতি ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি, মোফাজ্জল হোসেন মোল্লা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি , জুলহাস হোসেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদল,সুলতান উদ্দিন সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা জেলা যুবদল , বাবুল মন্ডল সাবেক সাধারণ সম্পাদক ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি, মো.ফারুক হোসেন যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদল,হারুন অর রশিদ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদল সহ আরো বিএনপির অন্যান্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।