বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

​​​​​​​চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২২:৫১, ৪ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকা দিচ্ছে জাইকা

চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকা দিচ্ছে জাইকা

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। এ অর্থে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য ৫০টির বেশি আধুনিক যানবাহন এবং ল্যান্ডফিল পরিচালনার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি নগরে আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণেও কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

গতকাল বুধবার  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নগর ভবনে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাইকার প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত অনুদান প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন দিয়েছে জাপান সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে জাইকার সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রাম সফর করবে। তাদের সমীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে ফতেয়াবাদ নন্দীরহাট এলাকায় ল্যান্ডফিল নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ১৮ একর এবং পাশের অন্য একটি অংশে ১০ একর জমি রয়েছে।

জাইকা বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিদেকি ওসাওয়া জানান, নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত প্রস্তুতের লক্ষ্যে নকশা ও প্রাক্কলন (বিওকিউ) তৈরিতে জাইকার কারিগরি সহায়তা দলের বিশেষজ্ঞরা চসিকের সঙ্গে কাজ করছেন।

বৈঠকে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন জাইকার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে চসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ল্যান্ডফিলগুলোর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নেও জাইকার কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, জাইকা বাংলাদেশের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসেন এবং সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য তাকাতোশি আরাই, হিরোফুমি মিয়োশি, সাতোশি হিগাশিনাকাগাওয়া ও প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত অনুদান ও কারিগরি সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে নগরের বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে চসিক। তবে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, চূড়ান্ত অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এসব সুবিধা কার্যকর হবে।