যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভাটা
ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক তৈরি পোশাক আমদানি কমার মধ্যেও আগস্ট মাসে বাংলাদেশ থেকে দেশটির পোশাক আমদানি বেড়েছে। তবে মাসভিত্তিক এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্যও কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক তৈরি পোশাক আমদানিতেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে মোট আমদানি করা পোশাকের গড় একক মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজারে চলতি বছর চাহিদা ও আমদানির ক্ষেত্রে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক আমদানিকারক দেশটির বাজারে সামগ্রিক আমদানি কমে যাওয়ায় প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি যেমন পরিমাণের দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছে, তেমনি কমেছে গড় একক মূল্যও। ফলে একই পরিমাণ বা কাছাকাছি পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও আগের তুলনায় কম আয় হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
আগস্টে প্রবৃদ্ধি, আট মাসে পতন: ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ইতিবাচক প্রবণতা। তবে পুরো আট মাসের হিসাব সামনে আনলে চিত্রটি ভিন্ন।
জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও বছরের প্রথম আট মাসের সামগ্রিক হিসাব এখনও নেতিবাচক।
এতে বোঝা যায়, একক মাসের প্রবৃদ্ধি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সামগ্রিক অবস্থান মূল্যায়ন করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বরং দীর্ঘ সময়ের প্রবণতায় রপ্তানি কমার বিষয়টি খাতটির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এই বাজারে আমদানি কমে গেলে শুধু রপ্তানির পরিমাণ নয়, কারখানার উৎপাদন পরিকল্পনা, নতুন অর্ডার, পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বৈশ্বিক বাজারেও চাপ: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার বিষয়টি শুধু দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বা প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতেও একই সময়ে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক তৈরি পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪৯ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আট মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪৯ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
শুধু অর্থমূল্য নয়, আমদানির পরিমাণও কমেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারে পোশাকের মোট আমদানি যেমন কমেছে, তেমনি পরিমাণের দিক থেকেও আমদানি সংকুচিত হয়েছে।
তবে এর বিপরীতে গড় একক মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ কম পরিমাণ পোশাক আমদানি করলেও আমদানিকৃত পোশাকের গড় মূল্য কিছুটা বেশি হয়েছে।
এখানেই বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বাজারে আমদানির পরিমাণ কমলেও বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ফলে বৈশ্বিক বাজারের গড় মূল্য যেখানে বেড়েছে, সেখানে বাংলাদেশের পণ্যের গড় মূল্য কমেছে।
কমছে বাংলাদেশের পোশাকের একক মূল্য: বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে গড় একক মূল্য কমে যাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোই একটি দেশের তৈরি পোশাক খাতের আয় বৃদ্ধির একমাত্র উপায় নয়। একই পরিমাণ পোশাক যদি তুলনামূলক বেশি দামে রপ্তানি করা যায়, তাহলে রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ থাকে।
অন্যদিকে গড় একক মূল্য কমে গেলে রপ্তানির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও মোট রপ্তানি আয় কমে যেতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পোশাকের গড় একক মূল্য ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য মূল্য প্রতিযোগিতার চাপের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা একই ধরনের পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়ার সুযোগ পেলে সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে অর্ডার পাওয়ার প্রতিযোগিতা বাড়ে। তখন উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের ওপর দাম কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে।
ফলে রপ্তানি বাড়াতে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। বরং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেশি মূল্য সংযোজনকারী পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা: বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক আমদানি কমার পাশাপাশি প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর পোশাকের একক মূল্য কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।
তার মতে, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে মূল্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য, উৎপাদন দক্ষতা এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞের এই বক্তব্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সামনে থাকা মূল চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পোশাক খাত মূলত প্রতিযোগিতামূলক দাম, বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং শ্রমঘন পোশাক উৎপাদনের ওপর শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তবে বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু মৌলিক পোশাক বা তুলনামূলক কম মূল্যের পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
উচ্চমূল্যের পোশাকে গুরুত্ব: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ধরে রাখতে উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ একই পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করে যদি বেশি মূল্য পাওয়া যায়, তাহলে সামগ্রিক রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব।
এ জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ধরনের পোশাক উৎপাদন, মান উন্নয়ন এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও ফ্যাশন ট্রেন্ড দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় উৎপাদনকারীদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে বিপুল কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে রপ্তানি কমার প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা খাতটির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে আগস্ট মাসে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ বাজারে সামগ্রিক চাপ থাকলেও বাংলাদেশি পোশাকের জন্য চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। বরং নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের অর্ডার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পরিমাণের সঙ্গে মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ: তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু রপ্তানির পরিমাণের দিকে নজর দিলে বাজারের প্রকৃত অবস্থা পুরোপুরি বোঝা যায় না। রপ্তানি পণ্যের গড় একক মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কারণ একটি দেশের রপ্তানিকারকরা কত পরিমাণ পণ্য বিক্রি করছেন, তার পাশাপাশি প্রতি ইউনিট পণ্য থেকে কত আয় করছেন, সেটিও সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পোশাক আমদানি কমার পাশাপাশি গড় একক মূল্য ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। এতে একই সঙ্গে দুটি চাপ তৈরি হয়েছে—একদিকে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে, অন্যদিকে পণ্যের গড় মূল্যও কমেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতে পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমলেও গড় একক মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। এই পার্থক্য বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতারা যখন তুলনামূলক বেশি মূল্যের পোশাক আমদানি করছেন, তখন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়ার অর্থ হতে পারে দেশটির রপ্তানি ঝুড়িতে তুলনামূলক কমমূল্যের পণ্যের আধিক্য রয়েছে অথবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দাম নিয়ে চাপ রয়েছে। যদিও শুধু এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এর নির্দিষ্ট কারণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে কম মূল্যের বাজারেও প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হয়। আবার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বাড়লে একই সময়ে বেশি বা উন্নত মানের পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।
এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্বের বড় পোশাক ব্র্যান্ডগুলো শুধু পণ্যের দাম নয়, মান, সরবরাহের সময়, উৎপাদন সক্ষমতা এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার মতো বিষয়ও বিবেচনা করে। ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি: বাংলাদেশের পোশাক খাতের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পণ্যের বৈচিত্র্য। একই ধরনের সীমিত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে নির্দিষ্ট বাজারে চাহিদা কমে গেলে রপ্তানিতে দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে পোশাকের ধরন ও মানের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে প্রতিযোগিতা শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ, মান বজায় রাখা এবং সময়মতো অর্ডার সম্পন্ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আগস্টের প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই: আগস্টে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বাড়লেও এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই প্রবৃদ্ধি পরবর্তী মাসগুলোতেও ধরে রাখা যাবে কি না।
কারণ জানুয়ারি-আগস্টের আট মাসের সামগ্রিক হিসাবে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি এখনও ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। ফলে একটি মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পুরো বছরের নেতিবাচক প্রবণতা পাল্টাতে পারে কি না, সেটি নির্ভর করবে পরবর্তী মাসগুলোয় অর্ডার ও আমদানির গতিপ্রকৃতির ওপর।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। ফলে বাজারের মোট আকার যখন সংকুচিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশকে অন্য সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অর্ডার ধরে রাখতে হবে।
নতুন কৌশলের প্রয়োজন: রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সামনে তাই একাধিক করণীয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি করা।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেলের বক্তব্যেও এসব বিষয় উঠে এসেছে। তার মতে, শুধু মূল্য প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর না করে পণ্যের বৈচিত্র্য, উৎপাদন দক্ষতা এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
এতে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তুলনামূলক বেশি মূল্য সংযোজনকারী পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
সামনে কঠিন প্রতিযোগিতা: সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের জন্য এখন মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে আগস্টে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে প্রথম আট মাসে সামগ্রিক আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। একই সময়ে গড় একক মূল্যও কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪৯ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে বৈশ্বিকভাবে আমদানি করা পোশাকের গড় একক মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুনভাবে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমলেও বাংলাদেশ থেকে আগস্টে আমদানি বাড়ার অর্থ হলো প্রতিযোগিতার মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য বাজার ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে।
তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে শুধু কম দামে পোশাক সরবরাহের কৌশল যথেষ্ট হবে না। বরং পণ্যের বৈচিত্র্য, মান, উৎপাদন দক্ষতা এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কম খরচে উৎপাদনের পাশাপাশি বেশি মূল্য সংযোজনের সক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যান সেই বাস্তবতাই নতুন করে সামনে এনেছে।