বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২:২৫, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফাইন ফুডস নিয়ে প্রশ্ন

লভ্যাংশে বড় ঘোষণা  নগদ প্রবাহে ঘাটতি

লভ্যাংশে বড় ঘোষণা  নগদ প্রবাহে ঘাটতি

ছবি সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেড ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যবসার বিপরীতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির পর এমন বড় লভ্যাংশ ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও, কোম্পানিটির পরিচালন নগদ প্রবাহ বা অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ঘোষিত লভ্যাংশ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে লভ্যাংশের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফাইন ফুডসের শেয়ারপ্রতি মুনাফা বা ইপিএস হয়েছে ১১ টাকা ৮১ পয়সা। আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৪ টাকা ১৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। মুনাফার এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশও আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
এর আগের অর্থবছরে ফাইন ফুডস সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এবার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বাড়িয়ে ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের লভ্যাংশ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগের বছরের তুলনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের হার প্রায় তিন গুণে উন্নীত হয়েছে।
তবে লভ্যাংশের ঘোষণার সঙ্গে কোম্পানিটির নগদ প্রবাহের তথ্য তুলনা করলে ভিন্ন একটি চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফাইন ফুডসের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস হয়েছে মাত্র ১ টাকা ৯০ পয়সা। বিপরীতে একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১১ টাকা ৮১ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি মুনাফা এবং ব্যবসা পরিচালনা থেকে আসা নগদ অর্থপ্রবাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। কোম্পানির আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণে এই ব্যবধানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ একটি কোম্পানি হিসাবের খাতায় মুনাফা দেখালেও সেই মুনাফার বিপরীতে বাস্তবে কতটা নগদ অর্থ তৈরি হচ্ছে, তা বোঝার জন্য পরিচালন নগদ প্রবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বিশেষ করে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে কোম্পানির হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
ফাইন ফুডসের ক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি ১১ টাকা ৮১ পয়সা মুনাফার বিপরীতে পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ১ টাকা ৯০ পয়সা। ফলে কোম্পানিটির ব্যবসা থেকে তৈরি হওয়া নগদ অর্থ এবং হিসাবভিত্তিক মুনাফার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এ কারণে ঘোষিত ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ কোম্পানিটির প্রকৃত নগদ সক্ষমতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত কোনো কোম্পানির মুনাফা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তবে মুনাফার পাশাপাশি নগদ প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসাবভিত্তিক মুনাফা এবং হাতে থাকা নগদ অর্থ এক বিষয় নয়। কোম্পানির বিক্রয়, পাওনা আদায়, সরবরাহকারীকে অর্থ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে যে নগদ অর্থ প্রবাহিত হয়, তা কোম্পানির প্রকৃত নগদ সক্ষমতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফাইন ফুডসের ঘোষিত লভ্যাংশের ক্ষেত্রে তাই শুধু ইপিএসের দিকে না তাকিয়ে নগদ প্রবাহের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে কোম্পানিটির নগদ অর্থের অবস্থান এবং লভ্যাংশ পরিশোধের সক্ষমতা বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কোম্পানিটির শেয়ারদর বর্তমানে ৪৭১ টাকা ৪০ পয়সার আশপাশে রয়েছে। ফলে উচ্চ শেয়ারদরের সঙ্গে কোম্পানির মুনাফা, সম্পদমূল্য, নগদ প্রবাহ এবং লভ্যাংশের সামঞ্জস্যও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় আসছে। কোনো কোম্পানির শেয়ারদর যখন তুলনামূলকভাবে উচ্চপর্যায়ে থাকে, তখন ওই কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্কভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন হয়।
ফাইন ফুডসের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি বাজারদর এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের মধ্যেও বড় ব্যবধান রয়েছে। বাজারে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর ও সম্পদমূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির আয়, ব্যবসার ভবিষ্যৎ, নগদ প্রবাহ এবং লভ্যাংশ দেওয়ার ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে এক বছরের ব্যবধানে ফাইন ফুডসের ইপিএসের বড় পরিবর্তনও বাজারে আগ্রহ তৈরি করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৪ টাকা ১৮ পয়সা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৮১ পয়সায়। মুনাফার এই পরিবর্তন কোম্পানিটির আয়ক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তবে সেই মুনাফার বিপরীতে পরিচালন নগদ প্রবাহ কেন তুলনামূলকভাবে কম, সেটিও আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগের অর্থবছরে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ফাইন ফুডস। এবার সেই লভ্যাংশ বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্যও লভ্যাংশের হার ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। লভ্যাংশের ক্ষেত্রে সাধারণ ও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের জন্য আলাদা হার নির্ধারণের বিষয়টিও কোম্পানির ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার ফলে কোম্পানিটির লভ্যাংশনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুধু ইতিবাচক দিক বিবেচনা না করে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার অন্যান্য সূচকও দেখা প্রয়োজন। কারণ একটি কোম্পানি নিয়মিত ও টেকসইভাবে লভ্যাংশ দিতে পারছে কি না, সেটি তার ব্যবসার নগদ প্রবাহ, মুনাফার গুণগত মান, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
ফাইন ফুডসের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের নগদ প্রবাহের তথ্য তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ১ টাকা ৯০ পয়সা হওয়ায় মুনাফার তুলনায় নগদ অর্থপ্রবাহের পার্থক্য অনেক বেশি। ফলে কোম্পানির ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান নগদ অর্থ, পূর্বের সঞ্চিত অর্থ কিংবা অন্যান্য উৎসের ওপর কতটা নির্ভর করতে হবে, সেটিও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় আসতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে মুনাফা বৃদ্ধি পেলেই সেটিকে একমাত্র ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখা উচিত নয়। মুনাফা কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেই মুনাফার বিপরীতে নগদ প্রবাহ কতটা তৈরি হয়েছে এবং কোম্পানির দায় ও সম্পদের অবস্থান কেমন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে নগদ প্রবাহের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে।
এদিকে ফাইন ফুডসের ঘোষিত লভ্যাংশ আগামী বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৬ ডিসেম্বর এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে অংশগ্রহণের জন্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে আগামী ১২ নভেম্বর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেকর্ড ডেটের দিন যেসব বিনিয়োগকারীর নামে কোম্পানিটির শেয়ার থাকবে, তারাই এজিএমে অংশগ্রহণ ও ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। ফলে লভ্যাংশ ঘোষণার পর এখন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি থাকবে রেকর্ড ডেট এবং এজিএমের দিকে।
কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশ চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এজিএমে কোম্পানির আর্থিক ফলাফল, লভ্যাংশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হবে।
ফাইন ফুডসের লভ্যাংশ ঘোষণার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা, মুনাফার ধারাবাহিকতা এবং নগদ প্রবাহের ওপর আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাজারে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার পেছনে শুধু লভ্যাংশ বা ইপিএস নয়, বরং কোম্পানির ব্যবসার ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ কারণে ফাইন ফুডসের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুনাফা বৃদ্ধি এবং বড় অঙ্কের নগদ লভ্যাংশ একদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিলেও, পরিচালন নগদ প্রবাহের তুলনামূলক দুর্বল অবস্থান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ১১ টাকা ৮১ পয়সা ইপিএসের বিপরীতে ১ টাকা ৯০ পয়সা এনওসিএফপিএস থাকায় কোম্পানির মুনাফা ও নগদ প্রবাহের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য তাই কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী, নগদ প্রবাহ, সম্পদ ও দায়ের অবস্থা এবং লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোম্পানিটি ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ তৈরি করতে পারছে কি না, সেটিও নজরে রাখতে হবে।
কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪৭১ টাকা ৪০ পয়সার আশপাশে থাকায় বর্তমান বাজারমূল্য এবং আর্থিক সূচকগুলোর মধ্যে সম্পর্কও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেয়ারদর শুধু বর্তমান মুনাফার ওপর নির্ভর করে না; ভবিষ্যৎ আয়, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি, সম্পদ, লভ্যাংশ এবং বাজারের প্রত্যাশার ওপরও এর প্রভাব থাকে।
সার্বিকভাবে, ফাইন ফুডসের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফলাফল ও লভ্যাংশ ঘোষণায় একদিকে কোম্পানিটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে, অন্যদিকে পরিচালন নগদ প্রবাহের সঙ্গে মুনাফার বড় ব্যবধানও সামনে এসেছে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ আগের বছরের তুলনায় বড় পরিবর্তন। একই সময়ে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
এখন কোম্পানিটির সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ঘোষিত লভ্যাংশ বাস্তবায়ন এবং ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত নগদ অর্থপ্রবাহ ধরে রাখা। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে ২৬ ডিসেম্বরের এজিএম এবং ১২ নভেম্বরের রেকর্ড ডেট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরবর্তী সময়ে কোম্পানির নগদ প্রবাহ ও মুনাফার ধারাবাহিকতাও নজরে থাকবে। পুঁজিবাজারে একটি কোম্পানির প্রকৃত সক্ষমতা বোঝার ক্ষেত্রে শুধু মুনাফা নয়, সেই মুনাফা থেকে কতটা নগদ অর্থ তৈরি হচ্ছে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফাইন ফুডসের সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্য তাই লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি এই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।