বিআইএন বাধ্যতামূলক নিয়ে আপত্তি ব্যাংকারদের
ছবি সংগৃহীত
ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর বা বিআইএন বাধ্যতামূলক করায় কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক গ্রাহক সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি)।
এমন অবস্থায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য শর্তটি শিথিল এবং বাস্তবায়নের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এ দাবি বিবেচনার সুযোগ নেই বলে এবিবিকে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সমপ্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাটের আওতা বাড়াতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনা এবং ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিআইএন নিবন্ধনের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনবিআরের নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট কিংবা শর্ট-টার্ম ডিপোজিট (এসটিডি) হিসাব খোলা বা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিআইএন দেখাতে হবে। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ এবং বিআরটিএতে প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও বিআইএন নিবন্ধনের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট এনবিআর চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে এবিবি কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ঋণ বা ক্রেডিট সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিআইএন বাধ্যতামূলক না করার অনুরোধ জানায়। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাস্তবায়নের সময় বাড়ানো এবং সিএমএসএমই খাতে ধাপে ধাপে বিআইএন বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।
জবাবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এনবিআর জানায়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৪ অনুযায়ী এ বিধান আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। ফলে এবিবির আবেদন বিবেচনার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আগে বিআইএন ছাড়া খোলা হিসাবগুলোতে দ্রুত ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিতে এবং নতুন হিসাব খোলার সময় বিআইএন যাচাই করতে এবিবিকে অনুরোধ করা হয়েছে।