মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২২:৫৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাইকার অর্থায়নে রাঙ্গুনিয়ায় ওয়াসার তৃতীয় পানি শোধনাগার

দৈনিক উৎপাদন ১০ কোটি লিটার

জাইকার অর্থায়নে রাঙ্গুনিয়ায় ওয়াসার তৃতীয় পানি শোধনাগার

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বাড়তে থাকা পানির চাহিদা মেটাতে রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীর তীরে আরও একটি পানি শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ‘কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩’ নামে এ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ১০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মতি দিয়েছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোডাউন ব্রিজসংলগ্ন সরফভাটা এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই এলাকায় বর্তমানে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ চালু রয়েছে। নতুন প্রকল্পের পানি নগরে সরবরাহের জন্য নতুন করে পাইপলাইন নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। প্রকল্প-২-এর বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবহার করেই পানি নগরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-৩-এ অর্থায়নে জাইকা সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে জাইকার একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে। এ জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, জাইকার প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর প্রাক্-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এ ধাপ শেষ হলে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হবে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, এর আগে ২০১৬ সালে জাইকার অর্থায়নে রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন এলাকায় কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা দিয়েছে ৩ হাজার ৬২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৮৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।

২০২১ সালের ১৬ মার্চ প্রকল্প-২ থেকে কর্ণফুলী নদীর পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরে সরবরাহ শুরু হয়। নগরের নাসিরাবাদে রিজার্ভার ও হালিশহরে এলিভেটেড ট্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের পানি দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০২২ সালের ১৬ মার্চ।

রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার দুটি পানি শোধনাগার প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-১ থেকে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পানি উত্তোলন করা হয়। আর প্রকল্প-২ থেকে পানি উত্তোলন করা হয় সরফভাটা এলাকা থেকে। প্রস্তাবিত প্রকল্প-৩-এর জন্যও একই এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদীর পানি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম আরও জানান, রাঙ্গুনিয়ায় স্থাপিত কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-১ ও প্রকল্প-২ ওয়াসার বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। নগর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এসব শোধনাগারে কর্ণফুলী নদীর পানি পরিশোধনের পর পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে প্রকল্প-১ ও প্রকল্প-২ থেকে প্রতিদিন মোট ২৮ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে। এ জন্য কর্ণফুলী নদী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করা হয়।

মাকসুদ আলম জানান, আগে ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস ছিল ৩৩ শতাংশ। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তা কমিয়ে বর্তমানে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সিস্টেম লস আরও কমানো গেলে রাজস্ব আয় বাড়বে। ওয়াসা মূলত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। গ্রাহকদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়ানো হয়েছে। পরিচালন ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের পর ওয়াসার তহবিলেও অর্থ জমা হচ্ছে।

নতুন ১০ কোটি লিটার উৎপাদনক্ষমতার প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাঙ্গুনিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে ওয়াসার পানি সরবরাহের সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নগরীর জনসংখ্যা ও নগরায়ণের সঙ্গে বাড়তে থাকা পানির চাহিদা মোকাবিলায় ওয়াসার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।