পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতন, কমেছে লেনদেন
ছবি সংগৃহীত
ফের দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ফলে সূচকের বড় পতন হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর আগে গত সপ্তাহে টানা দুই কার্যদিবস দরপতনের পর গত বুধবার ঊর্ধ্বমুখী হয় পুঁজিবাজার। পাশাপাশি লেনদেন বেড়ে ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার আবার দরপতন হয়।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এতে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে—এমন প্রত্যাশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।
কিন্তু প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে এই প্রবণতা। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে এই প্রবণতা আরও বাড়ে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন।
এদিন লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৮টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৮টির।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯১টির এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ২৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—এনভয় টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সেনা ইন্স্যুরেন্স, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, মালেক স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯০টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১২৮ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।