নারায়ণগঞ্জে মেঘনায় ট্রলারডুবি, বাবা নিখোঁজ
দুদিন পর তিন ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর একই পরিবারের তিন ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের বাবা হেলাল উদ্দিন (৫৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫)। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অপরজন হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি এলাকা থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকায় আসছিলেন কয়েকজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ট্রলারে যাত্রীর সংখ্যা ১৩ থেকে ১৪ জন বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে দুটি গরু ও একটি ছাগলও ছিল। মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
ট্রলারডুবির পর কাছাকাছি থাকা একটি ট্রলার এগিয়ে এসে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, সজীব, সামিয়া ও সামিন নিখোঁজ ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আরেক নারী রায়েসা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পানির নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি দল কাজ করে এবং ক্যামেরাও ব্যবহার করা হয়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ব্যাপক তল্লাশি চালানোর পর শনিবার সকালে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তিন ভাইবোনের মরদেহ পাওয়া যায়।
এর আগে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার আনুমানিক বেলা দেড়টার দিকে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালানোর পর সকাল ৭টা থেকে আবারও অভিযান শুরু করা হয়। তিনি বলেন, পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ডুবুরি দলও বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়েছে।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, ট্রলারটিতে ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের সঙ্গে দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে স্বজনেরা কুমিল্লার হোমনা থেকে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকায় আসছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে মরদেহগুলো শনাক্ত করেন স্বজনরা। হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও দুর্ঘটনার কারণে পরিবারটির আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। স্বজনেরা এখন নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছেন।