শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৩:২৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিটিসেলের চার পরিচালক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সিটিসেলের চার পরিচালক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

শেয়ার বিজ

দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেল) পরিচালনা পর্ষদের একাধিক পরিচালক ও একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আর্থিক দায়দেনা ও অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার জের ধরে দায়ের করা অর্থজারি মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার ৭ম অর্থঋণ আদালত থেকে জারি করা পরোয়ানায় সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এ বছর আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে সোপর্দ বা হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অর্থজারি মামলা নম্বর ৮১০/২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে গত ২৬ সেপ্টেম্বর এ আদেশ স্বাক্ষর করেন ঢাকার ৭ম অর্থঋণ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ। অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪(১) ধারার আওতায় এবং ছয় মাসের আটক রাখার আদেশসংক্রান্ত বিধানের প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া চারজন হলেন—প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের পরিচালক মো. মোর্শেদ, পরিচালক আসগর করিম, জামিনদার ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. ফারিকুল হাসান এবং পরিচালক নাসরিন খান।
আদালতের পরোয়ানায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঠিকানা প্যাসিফিক সেন্টার, ১৪ মহাখালী সি/এ, গুলশান, ঢাকা-১২১২। তাদের গ্রেপ্তার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করার জন্য গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশে যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন সিটিসেলের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক। অন্যজন প্রতিষ্ঠানটির জামিনদার এবং একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
পরোয়ানায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মো. মোর্শেদের নাম রয়েছে। তিনি প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে উল্লেখিত। দ্বিতীয় ব্যক্তি আসগর করিম। তিনিও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।
তৃতীয় ব্যক্তি মো. ফারিকুল হাসান। আদালতের নথিতে তাকে জামিনদার হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ ব্যক্তি নাসরিন খান। আদালতের নথিতে তাকেও সিটিসেলের পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা চার ব্যক্তির মধ্যে তিনজন সরাসরি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত এবং একজন কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আর্থিক দায়দেনা এবং অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগের জের ধরে দায়ের হওয়া অর্থজারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি অর্থজারি মামলা নম্বর ৮১০/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
অর্থঋণ আদালতে কোনো পক্ষের আর্থিক দায় সংক্রান্ত ডিক্রি বা আদেশ বাস্তবায়নের পর্যায়ে অর্থজারি কার্যক্রম শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য আদালত বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। সিটিসেলের ক্ষেত্রে চলমান অর্থজারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই বর্তমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে আদালতের নথিতে প্রতীয়মান হয়।
তবে আদালতের পরোয়ানা জারি হওয়া নিজেই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমান নয়। এটি আদালতের একটি আইনগত পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য হলো মামলার আদেশ ও কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতের সামনে হাজির করা।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার পর আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে সোপর্দ বা হাজির করতে হবে।
এজন্য গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের আদেশের অনুলিপি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফলে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। পরোয়ানায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় কি না, সেটিই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেবে সিটিসেলের যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নানা ধরনের আর্থিক ও আইনগত জটিলতার মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন আর্থিক দায়, পাওনা পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বিরোধ নিয়ে একাধিক আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
বর্তমান অর্থজারি মামলার ঘটনাও সেই দীর্ঘ আর্থিক বিরোধের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। আদালতের নথিতে আর্থিক দায়দেনা ও অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে কোন পক্ষের কী পরিমাণ অর্থ পাওনা, সেই অর্থের মূল উৎস কী এবং অর্থজারি মামলার পেছনে নির্দিষ্ট আর্থিক চুক্তি বা দায়ের বিস্তারিত কী—তা আদালতের পরোয়ানায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ নেই। ফলে এসব বিষয়ে আদালতের পূর্ণ নথি ও মামলার অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের ওপর পড়ে। এ ক্ষেত্রে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরোয়ানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করার ব্যবস্থা করবে। আদালতের নথিতে এ বছর ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাদের আদালতে সোপর্দ বা হাজির করার নির্দেশ থাকায় ওই সময়সীমার মধ্যেই পরোয়ানা বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরোয়ানার অনুলিপি ডিএমপি কমিশনারের মাধ্যমে পাঠানোর বিষয়টিও আদেশে উল্লেখ রয়েছে। ফলে এটি শুধু সংশ্লিষ্ট থানার পর্যায়ের বিষয় নয়; আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে।
সিটিসেলের ক্ষেত্রে বর্তমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—এর আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনই কোম্পানির পরিচালক। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধেও আদালত এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন।
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ফারিকুল হাসানকে একই সঙ্গে জামিনদার হিসেবে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, মামলার নথিতে তার পরিচয় শুধু কোম্পানির একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, জামিনদার হিসেবেও এসেছে।
অর্থজারি মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় ও আদালতের আদেশের প্রকৃতি মামলার নথির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। তাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের নথিতে তার নির্দিষ্ট ভূমিকা কী এবং দায়ের ধরন কী—তা মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি থেকেই স্পষ্ট হবে।
আদালতের আদেশে ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’-এর ৩৪(১) ধারার উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ছয় মাসের আটকে রাখার আদেশের বিষয়টিও নথিতে এসেছে।

অর্থঋণ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। বর্তমান পরোয়ানায়ও সংশ্লিষ্ট আইন ও আদালতের আদেশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালতের আদেশের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা, মামলার অবস্থান এবং পরবর্তী শুনানিতে আদালতের নির্দেশনার ওপর।
সিটিসেল দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীনতার সঙ্গে আর্থিক ও আইনগত জটিলতার মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে চার পরিচালক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির ওপর নতুন করে আইনি চাপ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে একই মামলার প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে এই পরোয়ানার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আর্থিক দায় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আদালতের পরবর্তী আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আইনি পদক্ষেপের ওপর বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ বা হাজির করতে হবে। ফলে এখন নজর থাকবে পরোয়ানা বাস্তবায়নের দিকে।
আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে হাজির হন কি না—তা পরবর্তী সময়ে মামলার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এদিকে অর্থজারি মামলা ৮১০/২০২৬-এর পরবর্তী কার্যক্রমও এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অর্থাৎ, শুধু গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি নয়, মূল অর্থজারি কার্যক্রমে পাওনা অর্থ আদায় ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশনাও সামনে থাকবে।
সিটিসেলের পরিচালকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই ঘটনা তাই প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের আর্থিক ও আইনি জটিলতার নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি ও পরবর্তী আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দায় বা মামলার অভিযোগের চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
আদালতের নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মূল বিষয় হলো—অর্থজারি মামলা ৮১০/২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন এবং ১৮ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করা। এরপর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনায় মামলাটির পরবর্তী গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে।