মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

​​​​​​​নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২:৫১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টানা চার কার্যদিবস পতনে পুঁজিবাজার, লেনদেন কমে ৬০০ কোটির ঘরে

টানা চার কার্যদিবস পতনে পুঁজিবাজার, লেনদেন কমে ৬০০ কোটির ঘরে

ছবি সংগৃহীত

টানা দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে সূচক।

এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হলো। টানা দরপতনের সঙ্গে লেনদেনের গতিও কমে গেছে। ডিএসইতে লেনদেন কমে ৬০০ কোটি টাকার ঘরে নেমেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখীই থাকে। তবে শেষ ঘণ্টার লেনদেনে বদলে যায় বাজারের চিত্র। দাম কমার তালিকায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১৪২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৭৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৬টির দাম কমেছে এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৯টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৭টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার। ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম কটন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাপেক্স স্পিনিং, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক ও মালেক স্পিনিং।

অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮২টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।