মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিনিধি, নরসিংদী 

প্রকাশ: ২২:৫৮, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আজহারুলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আজহারুলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

ছবি সংগৃহীত

চরম আর্থিক অনটনে পড়া আজহারুল ইসলাম (২৫) নামে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর দোকানে নতুন করে পুঁজি লাগিয়ে তার কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ নিশ্চিত করে দিয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া। আজহারুল ইসলাম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের দিনমজুর মাজহারুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। এমনকি আজহারুলের পরিবারের চারজন পুরুষ সদস্যও শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন। চরম অভাব-অনটনের মাঝে বড় হওয়া আজহারুল নিজেও জন্ম থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি রয়েছে)। এই স্বল্প দৃষ্টিশক্তি নিয়েই তিনি দৈনন্দিন চলাফেরা করেন। আজহারুল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদরাসায় কিছুদিন পড়াশোনা করলেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সনদ অর্জন করতে পারেনি। তার বয়স ২০ বছর পার হওয়ার পর পরিবারের উদ্যোগে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে আনিফা (৪) ও আশফাক (দেড় বছর) বয়সের এক ছেলে ও মেয়ে সন্তান রয়েছে তার।
সংসার চালাতে গিয়ে বাড়ির পাশে স্থানীয় একটি স্কুলের ধারে ছোট একটি টং দোকান দিয়ে শিশুদের খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন আজহারুল। তবে ছোট ছেলে আশফাকের জন্মের সময় চিকিৎসার ব্যয়ে দোকানের পুরো পুঁজি শেষ হয়ে যায়। এতে পণ্যহীন খালি দোকান নিয়েই তাকে অলস সময় পার করতে হতো। পরবর্তীতে এক পথচারীর দেওয়া মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে দোকানে সামান্য কিছু মালামাল তুললেও সংসারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তার এ অবস্থাটি নরসিংদী জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিগোচরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আজহারুলের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তিনি আজহারুলকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডেকে পাঠান এবং তার মুখে কষ্টের গল্প শুনে দোকানের পুঁজি পুনর্গঠনের জন্য নগদ অর্থের চেক তুলে দেন।
সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার সময় চিকিৎসার খরচে দোকানের সব পুঁজি শেষ হয়ে যায়। খালি দোকান নিয়ে বসে নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতাম। জেলা প্রশাসক মহোদয় যেভাবে আমাকে অর্থ সহায়তা দিয়ে আয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তাতে আমি অনেক খুশি। এই সাহায্যে আমার সংসার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানান, বিষয়টি যেমন মানবিক, তেমনি নাগরিকের প্রতি আমাদের দায়িত্বের একটি অংশ।
এক সাংবাদিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার দোকানের জন্য পুঁজির সংস্থান করা হয়েছে। সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া। শুধু আজহারুল নন, এমন পরিস্থিতির শিকার যেকোনো মানুষের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত।