শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

স্টাফ রিপোর্টার, শেয়ার বিজ ডেস্ক :

প্রকাশ: ১২:১০, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং বাংলাদেশকে কোনোভাবেই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে—এমন অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনাকে ধারণ করেই একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে ভবিষ্যতে আর কেউ জনগণের অধিকার হরণ করতে পারবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রও সফল হতে দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের অধিকার ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যখনই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, তখনই ঐক্যবদ্ধ জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, জাতীয় ঐক্যই বাংলাদেশের শক্তি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে।

বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। তাঁকে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সিপাহি ও সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন। এ কারণে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ম্যাগনা কার্টা ইংল্যান্ডের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক সনদ। ১২১৫ সালের ১৫ জুন রাজা জন এই সনদে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। লাতিন শব্দ ম্যাগনা কার্টার অর্থ মহাসনদ। আধুনিক গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের বিকাশে এই সনদকে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণের পার্থক্য ভুলে বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি।

তিনি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের সমান নাগরিক পরিচয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই অভিন্ন পরিচয়ই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রকৃত নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি ও সাধারণ জনগণ।

বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান যেভাবে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালেও একইভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়।

দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে দেশের তরুণ সমাজ জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য কখনোই সুদৃঢ় হতে পারে না।

তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান।

তিনি বলেন, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় বাংলাদেশের তরুণ সমাজ দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন থাকার প্রমাণ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দল, ধর্ম কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার স্বার্থ এক ও অভিন্ন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি মনে করেন, অতীতের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেই বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।