শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:০০, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শীতের সবজির কমছে দাম, চড়া মাছ-মাংস

শীতের সবজির কমছে দাম, চড়া মাছ-মাংস

ছবি সংগৃহীত

শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায় রাজধানীর বাজারে বেশকিছু সবজির দাম কমেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের দাম এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি।

অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। এসব পণ্য এখনো উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ ও মাংস কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার অনুযায়ী প্রতিটি ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ বেগুনের কেজি ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

তবে কয়েকটি সবজির দাম এখনো বেশি। প্রতি কেজি টমেটো ও কাঁচামরিচ ১২০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসার কেজি ৮০ টাকা, আর হাইব্রিড শসা পাওয়া যাচ্ছে ৬০ টাকায়। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম কিছুটা কমলেও মাছের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। অধিকাংশ মাছই আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ইলিশের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আকার ও মান অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে বড় আকারের ইলিশের কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

মাছের মতো মাংসের বাজারেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ বাজারদরের প্রতিবেদনেও নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির ৫ নভেম্বর প্রকাশিত খুচরা বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে।

অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম অয়েল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। সব মিলিয়ে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ ক্রেতাদের ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।