পুঁজিবাজারে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন
ছবি সংগৃহীত
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেইসঙ্গে ডিএসইতে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।
সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হয়। তবে চতুর্থ কার্যদিবস গত বুধবার বড় উত্থানের দেখা মিলে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকল।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এমনকি শেষদিকে দাম বাড়ার প্রবণতা আরও বাড়ে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৮টির দাম কমেছে এবং ১৯টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫টির দাম কমেছে এবং সাতটি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৩টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার। ১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নাহি অ্যালুমেনিয়াম।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—আইপিডিসি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, মতিন স্পিনিং এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৬টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৩৮ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।