অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তরুণদের প্রশিক্ষণ
অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তরুণদের প্রশিক্ষণ
সমাজে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও। কিন্তু এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো পর্যাপ্ত সামাজিক সহায়তা নেই। বিশেষ করে প্রান্তিক ও অসহায় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেশি। এমন বাস্তবতায় মানবিক সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ লক্ষ্যেই নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্ব ও কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ‘মমতাময় নারায়ণগঞ্জ’ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে আয়াত এডুকেশন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ৪০ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম এবং আয়াত এডুকেশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লায়লা করিম।
বক্তারা বলেন, সমাজসেবা শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের মানসিক শক্তি জোগানো এবং পরিবারের দুর্দিনে সহমর্মী হওয়াও মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পরিবার ও কমিউনিটির সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা উপশমমূলক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ ধরনের সেবার মূল লক্ষ্য শুধু রোগের চিকিৎসা নয়; বরং রোগীর কষ্ট কমানো, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাঁকে মানসিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশ, কার্যকর কমিউনিটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ মানুষের সেবায় শুধু চিকিৎসাসেবা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পারিবারিক সহযোগিতা, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে অসহায় মানুষের জন্য সহায়তার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
কর্মশালার শেষপর্বে অংশগ্রহণকারী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয় পর্যায়ে বয়স্ক, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একটি মানবিক, সহমর্মী ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে নিজেদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারও করেন তাঁরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। যারা সমাজের অবহেলিত ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। মানবিকতার চর্চা ছড়িয়ে দেবে পরিবার থেকে কমিউনিটি পর্যন্ত।