রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:০৭, ৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল  ২৫২ টাকা

এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল  ২৫২ টাকা

ছবি সংগৃহীত

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। এবার প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২১ টাকা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা এবং ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর আগে গত মাসে দাম কমেছিল ১৩ টাকা।
গতকাল রোববার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এলপিজির দাম বেড়েছিল। এরপর যুদ্ধবিরতি শুরু হলে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে। দুমাস ধরে  ওঠানামার মধ্যে ছিল। এ মাসে আবার বড় রকমের উল্লম্ফন দেখা গেল।
যদিও গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার চেয়ে এলপিজি সরবরাহ কমেছে বাজারে। এতে করে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি হয় এলপিজির। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ানো হয় ৩৮৭ টাকা। এরপর একই মাসের ১৯ এপ্রিল আবার বাড়ানো হয় ২১২ টাকা। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয় দেশে।
বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। এ হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে, যা আগে ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা।
সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয় গৃহস্থালির কাজে। অভিযোগ আছে, প্রতি সিলিন্ডারে বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা। গ্যাস সংকটে পড়ে অনেকেই বাসায় রান্না করতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।
সরকারি কোম্কানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহূত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।
এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্কানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।