বাজার মূলধন কমলো সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কমেছে সূচক-লেনদেন
ছবি সংগৃহীত
গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই মূল্যসূচক কমেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। এতে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। সেইসঙ্গে কমেছে মূল্যসূচক। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৯টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮০টির। আর ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমে ১ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকও কমেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৪৬ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৪৬ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৩ শতাংশ। অপর দুই সূচকের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ্ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্কানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৮ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৮ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৮১ শতাংশ।
আর বাছাই করা ভালো কোম্কানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৮ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১০ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ।
এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭০৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৭৮৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৭৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্কানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২৩ কোটি ৮ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—মালেক স্কিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাপেক্স স্কিনিং, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স এবং এনভয় টেক্সটাইল।