মুনাফা-লভ্যাংশে বড় উল্লম্ফন
ধানমন্ডিতে কোটি টাকার বিনিয়োগে ইবনে সিনা
শেয়ার বিজ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) যেমন বেড়েছে, তেমনি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রস্তাবিত নগদ লভ্যাংশের হারও আগের অর্থবছরের তুলনায় বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএসেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
শুধু আর্থিক ফল ও লভ্যাংশ বৃদ্ধিই নয়, ব্যবসায়িক সম্পদ বাড়ানোর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ২৪ হাজার ৩২১ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা কেনার অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এ সম্পদ কিনতে কোম্পানিটির ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১৫৮ টাকা। এর সঙ্গে নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচ যুক্ত হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে কোম্পানিটি ৬৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নগদ লভ্যাংশের হার বেড়েছে ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফাতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ইপিএস ছিল ২০ টাকা ২৭ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৪৩ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা।
শতাংশের হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ইপিএস বেড়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মুনাফার এই বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ লভ্যাংশের হারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নগদ লভ্যাংশ বৃদ্ধি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৬৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। পরবর্তী অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে তা বাড়িয়ে ৭৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে এক বছরের ব্যবধানে লভ্যাংশের হার বেড়েছে ১৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে লভ্যাংশের হার বৃদ্ধি সাধারণত সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের বিতরণের জন্য পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবিত অর্থের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। তবে এ লভ্যাংশ চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রেও ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হবে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী লভ্যাংশ বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
লভ্যাংশ বৃদ্ধির পেছনে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে ইপিএস ছিল ২০ টাকা ২৭ পয়সা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৫ টাকা ৪৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এক বছরে ইপিএস বেড়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রম বিশ্লেষণে ইপিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোম্পানি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কত টাকা মুনাফা করেছে, তা ইপিএসের মাধ্যমে বোঝানো হয়। তাই ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ইপিএস বৃদ্ধির অর্থ হলো আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানির আয় বেড়েছে।
ইপিএস বৃদ্ধির পেছনে রাজস্ব, পরিচালন ব্যয়, কর, অন্যান্য আয়-ব্যয় বা ব্যবসার নির্দিষ্ট কোন খাত কতটা ভূমিকা রেখেছে—এ বিষয়ে কোম্পানির দেওয়া তথ্যের বাইরে আলাদা করে কোনো বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
মুনাফা ও লভ্যাংশের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএসেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের এনএভিপিএস ছিল ১২৫ টাকা ৬৯ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ১৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে এনএভিপিএস বেড়েছে ১৮ টাকা ৮৭ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশ।
কোম্পানির সম্পদ, দায় ও শেয়ারসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে এনএভিপিএস। ফলে এক বছরে এনএভিপিএসের এই বৃদ্ধি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে বলে নির্দেশ করছে।
একই সময়ে ইপিএস ও এনএভিপিএস—দুই সূচকেই বৃদ্ধি এসেছে। এর পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশের হারও বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফলে কোম্পানিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিবর্তন দেখা গেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল, ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং অন্যান্য করপোরেট সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের সামনে উপস্থাপনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমের তারিখ নির্ধারণ করেছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানির ঘোষণায় বলা হয়েছে, আগামী ২৩ নভেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য শেয়ারহোল্ডার নির্বাচনের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ অক্টোবর।
রেকর্ড ডেট পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত রেকর্ড ডেট অনুযায়ী যেসব বিনিয়োগকারী কোম্পানিটির শেয়ার ধারণ করবেন, তারা সংশ্লিষ্ট লভ্যাংশ ও এজিএম-সংক্রান্ত সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেন। পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবিত ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশসহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
আর্থিক ফলাফল ও লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি বড় অঙ্কের সম্পদ কেনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ২৪ হাজার ৩২১ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা কেনার অনুমোদন দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৩৪২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জায়গাটি রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার কনকর্ড লিলি হাইটসের ৮ নম্বর প্লট, ১৬ নম্বর সড়ক—পুরোনো ২৭ নম্বর সড়ক—ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯ ঠিকানায় অবস্থিত।
এই বাণিজ্যিক জায়গা কেনার জন্য ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসকে ব্যয় করতে হবে ৫৭ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১৫৮ টাকা। তবে এই অর্থই চূড়ান্ত মোট ব্যয় নয়। কারণ ক্রয়মূল্যের পাশাপাশি নিবন্ধন ফি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচও কোম্পানিকে বহন করতে হবে।
২৪ হাজার ৩২১ বর্গফুটের বাণিজ্যিক জায়গাটির মূল ক্রয়মূল্যই ৫৭ কোটি টাকার বেশি। নিবন্ধন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত হওয়ার পর প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়বে।
কোম্পানির প্রকাশিত ক্রয়মূল্য ও আয়তনের ভিত্তিতে হিসাব করলে বাণিজ্যিক জায়গাটির প্রতি বর্গফুটের মূল ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় আনুমানিক ২৩ হাজার ৬০০ টাকার কিছু বেশি। তবে নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ফলে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হলে কোম্পানিটির প্রকৃত প্রতি বর্গফুট বিনিয়োগ আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সম্পত্তিটির অবস্থান, ব্যবহারযোগ্যতা বা ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ধানমন্ডিতে এই বাণিজ্যিক জায়গা কেনার সিদ্ধান্তকে কোম্পানিটির সম্পদভিত্তি বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এই সম্পদ কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, সেখানে কোম্পানির কোনো নতুন কার্যক্রম পরিচালিত হবে কি না, কিংবা বর্তমান ব্যবসার কোনো অংশ সেখানে স্থানান্তর করা হবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির মূল ব্যবসার সঙ্গে ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম যুক্ত। উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি কোনো কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে জমি, ভবন বা বাণিজ্যিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে পারে। ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ধানমন্ডির এই সম্পদ কেনার সিদ্ধান্তও সেই ধরনের একটি বিনিয়োগ হতে পারে। তবে এর নির্দিষ্ট ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোম্পানিটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই আগের অর্থবছরের তুলনায় পরিবর্তন এসেছে। ইপিএস ২০ টাকা ২৭ পয়সা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা ৪৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এনএভিপিএস ১২৫ টাকা ৬৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪৪ টাকা ৫৬ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। নগদ লভ্যাংশের হার ৬৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ শতাংশ হয়েছে।
অর্থাৎ মুনাফা, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য এবং নগদ লভ্যাংশ—তিন ক্ষেত্রেই আগের অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি দেখা গেছে।
এর পাশাপাশি কোম্পানি ৫৭ কোটি টাকার বেশি মূল্যের নতুন একটি বাণিজ্যিক সম্পদ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে একই সময়ে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফল এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর সাধারণত বিনিয়োগকারীদের নজর থাকে ইপিএস, এনএভিপিএস, লভ্যাংশ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার দিকে। ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রেও এসব সূচকে পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষ করে ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব আগের বছরের ৬৪ শতাংশের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি ইপিএস ৫ টাকা ১৬ পয়সা বেড়েছে। এনএভিপিএসও ১৮ টাকা ৮৭ পয়সা বেড়েছে।
তবে এসব তথ্য কোম্পানির অতীত অর্থবছরের আর্থিক কার্যক্রম ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। ভবিষ্যতে কোম্পানিটির আয়, মুনাফা, লভ্যাংশ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম একই ধারায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি, ব্যয়, বিক্রয়, উৎপাদন, বাজার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ের ওপর।
একইভাবে ধানমন্ডির বাণিজ্যিক জায়গা কেনার সিদ্ধান্তের আর্থিক সুফল কী হবে, তা নির্ধারণের জন্য সম্পদটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও কোম্পানির পরিকল্পনা জানা প্রয়োজন হবে।
এখন ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট কার্যক্রম হচ্ছে ২৬ অক্টোবরের রেকর্ড ডেট এবং ২৩ নভেম্বরের বার্ষিক সাধারণ সভা।
২৬ অক্টোবর নির্ধারিত রেকর্ড ডেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের তালিকা নির্ধারণ করা হবে। এরপর ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এজিএম। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফল, ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশসহ পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
লভ্যাংশ অনুমোদনের পর কোম্পানি নিয়ম অনুযায়ী তা বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে ধানমন্ডির বাণিজ্যিক জায়গা কেনার সিদ্ধান্তও কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে থাকবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক ও করপোরেট কার্যক্রমে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২০ টাকা ২৭ পয়সা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা ৪৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ১২৫ টাকা ৬৯ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। একই সঙ্গে নগদ লভ্যাংশের হার ৬৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে পরিচালনা পর্ষদ।
কোম্পানিটি রাজধানীর ধানমন্ডিতে ২৪ হাজার ৩২১ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সম্পদ কিনতে মূল ক্রয়মূল্য হিসেবে ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৪৩ লাখ ১ হাজার ১৫৮ টাকা। এর সঙ্গে নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচ যুক্ত হবে।
বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম শেয়ার বিজকে বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভালো আর্থিক ফলাফল ও নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফা ও লভ্যাংশ বৃদ্ধির মতো তথ্য কোম্পানিটির আর্থিক কার্যক্রমের ইতিবাচক পরিবর্তনকে তুলে ধরে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোকে স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় রেখে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আল-আমিন শেয়ার বিজকে বলেন, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফা ও লভ্যাংশ বৃদ্ধি কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সক্ষমতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইপিএস বৃদ্ধির পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ বাড়ানো শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানির মুনাফার একটি অংশ বিতরণের সক্ষমতা তুলে ধরে। একই সঙ্গে এনএভিপিএস বৃদ্ধি কোম্পানিটির সম্পদভিত্তিও আগের তুলনায় শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স মূল্যায়নে পরবর্তী কয়েকটি প্রান্তিকের আয়, বিক্রয়, ব্যয় ও নগদ প্রবাহের ধারাবাহিকতা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে মুনাফা ও সম্পদমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বড় অঙ্কের সম্পদ কেনার অনুমোদনও দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।
এখন ২৬ অক্টোবরের রেকর্ড ডেট এবং ২৩ নভেম্বরের এজিএমকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির পরবর্তী করপোরেট কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। এজিএমে পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবিত ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশসহ অন্যান্য সিদ্ধান্তের ওপর শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়া হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী লভ্যাংশ বিতরণ ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক সূচকগুলোতে আগের বছরের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সম্পদ কেনার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথেও এগিয়েছে। ফলে মুনাফা, লভ্যাংশ, সম্পদমূল্য এবং নতুন সম্পদ অধিগ্রহণ—সব মিলিয়ে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের তথ্য পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির করপোরেট কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।