বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:৩৫, ১ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত সময়েই রক্ষণাবেক্ষণ শেষ

উৎপাদনে ফিরল সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল

উৎপাদনে ফিরল সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল

ছবি সংগৃহীত

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন করার পর পুনরায় নিয়মিত উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রমে ফিরেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড। কোম্পানিটির কারখানায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হয়েছে। এর পরদিন অর্থাৎ আজ থেকে কারখানায় নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে দেওয়া কোম্পানিটির সর্বশেষ তথ্যে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কারখানায় প্রয়োজনীয় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর কারখানাটি পুনরায় চালু করে নিয়মিত পরিচালন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে কোম্পানিটি।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইর মাধ্যমে দেওয়া এক তথ্যে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি জানিয়েছিল, কারখানায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হওয়ায় সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। তখন কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করার পর কারখানার নিয়মিত উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানির সর্বশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর ১ অক্টোবর থেকে কারখানার নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। অর্থাৎ রক্ষণাবেক্ষণের কারণে যে সাময়িক উৎপাদন বিরতি তৈরি হয়েছিল, তা শেষ হয়েছে এবং কোম্পানিটি আবার স্বাভাবিক পরিচালন কার্যক্রমে ফিরেছে।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিশোধন ও সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কারখানাকেন্দ্রিক হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদন বন্ধ এবং পুনরায় উৎপাদনে ফেরার মতো তথ্য পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

কারখানায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় কোম্পানিটি গত ৭ সেপ্টেম্বর উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সাধারণত কারখানার যন্ত্রপাতি, উৎপাদন ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য নেওয়া হয়। তবে কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে রক্ষণাবেক্ষণের নির্দিষ্ট কারিগরি বিষয় বা কোন কোন যন্ত্রপাতিতে কাজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে কোম্পানির সর্বশেষ ঘোষণায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ করার পরদিন থেকেই উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। ফলে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ীই কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উৎপাদন কার্যক্রমে সাময়িক বন্ধ বা পুনরায় চালুর তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা সরাসরি সম্পর্কিত। উৎপাদন বন্ধ থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। আবার উৎপাদন পুনরায় শুরু হলে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের ক্ষেত্রেও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িক সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধ ছিল। তবে কোম্পানির ঘোষণায় এখন জানানো হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হয়েছে এবং কারখানা পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটির নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম আবার চালু হয়েছে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে জরুরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে উৎপাদন পুনরায় চালু করা কোম্পানিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন অগ্রগতি। বিশেষ করে আগে দেওয়া ঘোষণায় যে সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ শেষ করে উৎপাদনে ফেরার কথা জানানো হয়েছিল, বাস্তবেও সেই সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

ডিএসইতে দেওয়া তথ্যে কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এখন থেকে নিয়মিত পরিচালন কার্যক্রম চলবে। অর্থাৎ ১ অক্টোবর থেকে কারখানাটি স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। রক্ষণাবেক্ষণকালীন যে কার্যক্রম স্থগিত ছিল, তা আবার চালু হয়েছে।

তবে উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার তথ্যের পাশাপাশি কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক ফলাফল বা ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স সম্পর্কে আলাদা করে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে মোট কতদিন উৎপাদন বন্ধ ছিল, এ সময়ে উৎপাদনের ওপর কী পরিমাণ প্রভাব পড়েছে এবং পরবর্তী সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা বা বিক্রয়ের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে—এসব বিষয়ে কোম্পানির সর্বশেষ ঘোষণায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির কারখানা বন্ধ ও পুনরায় চালুর মতো তথ্য সাধারণত বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী কোম্পানির ক্ষেত্রে কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে কি না, উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না এবং কোনো রক্ষণাবেক্ষণ বা প্রযুক্তিগত কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কি না—এসব তথ্য কোম্পানির নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই সাময়িক উৎপাদন বন্ধের পর্ব শেষ হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর ১ অক্টোবর থেকে কারখানার নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে কোম্পানিটি এখন আবার স্বাভাবিক উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় কোম্পানিটি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখার তথ্য দিয়েছিল। সেই সময় থেকেই বিনিয়োগকারীদের কাছে মূল বিষয় ছিল—কত দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ শেষ করে কারখানাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় কোম্পানি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পরদিন থেকেই উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে।

জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িক উৎপাদন বিরতির পর সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড আবার নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরেছে। কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ এবং ১ অক্টোবর থেকে কারখানার স্বাভাবিক পরিচালন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন কোম্পানিটির নিয়মিত উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম কীভাবে এগোয়, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণের বিষয়।