পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই
ছবি সংগৃহীত
দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই। আগের কার্যদিবসের ধরাবাহিকতায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবারও পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচকও। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে দরপতন হলো।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের ৩৫ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এতে পতন কেটে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার আশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।
কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সেই আশা বাস্তবে পূরণ হয়নি। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষেও সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে এর পর থেকেই বাজারে একপ্রকার ঢালাও দরপতন শুরু হয়, যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৭০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪০টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৩টির দাম কমেছে এবং তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৭টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ২৯টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমার বিপরীতে দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো মিউচুয়াল ফান্ড দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখাতে পারেনি।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৭ কোটি ৬ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনভয় টেক্সটাইল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—অ্যাপেক্স ফুডস, মালেক স্পিনিং, সোনালী লাইফ, ইভিন্স টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, সেনা ইন্স্যুরেন্স এবং একমি পেস্টিসাইড।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৭টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১০টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।