শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ২২:০৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়িতে এলজিইডির ১৮৯ পদের ১২৮টিই শূন্য

খাগড়াছড়িতে এলজিইডির ১৮৯ পদের ১২৮টিই শূন্য

ছবি সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ১৮৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১২৮টিই শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলী ও কারিগরি পদে জনবল না থাকায় একদিকে বাড়ছে কর্মরত কর্মকর্তাদের ওপর দায়িত্বের চাপ, অন্যদিকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের তদারকি। এতে কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলীর ৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন পাঁচজন। দীঘিনালা উপজেলায় একজনকে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করার পর দুমাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। সবচেয়ে বড় সংকট উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী পদে। ৯টি উপজেলায় এ পদের কোনো কর্মকর্তাই বর্তমানে কর্মরত নেই।

উপসহকারী প্রকৌশলী পদেও একই চিত্র। ২৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙা ও রামগড়ে একজন করে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে জেলার অধিকাংশ উপজেলায় মাঠপর্যায়ের প্রকৌশল ও কারিগরি তদারকির দায়িত্ব সীমিতসংখ্যক জনবলের ওপর নির্ভর করছে।

কার্য সহকারী পদেও রয়েছে বড় ঘাটতি। ৪৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। খাগড়াছড়ি সদরে একজন, দীঘিনালায় তিনজন, পানছড়িতে একজন, মহালছড়িতে দুজন, মাটিরাঙ্গায় দুজন, গুইমারায় দুজন, লক্ষ্মীছড়িতে একজন, মানিকছড়িতে একজন ও রামগড়ে দুজন দায়িত্ব পালন করছেন।

এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, সংস্থাটির অধিকাংশ কাজই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সেতু-কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কারিগরি তদারকি প্রয়োজন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্প ও এলাকার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়ছে ঠিকাদারদের কাজেও। এলজিইডির ঠিকাদার কমল বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঠিকাদারদের লাইসেন্স নবায়নের অনলাইন কার্যক্রমেও সার্ভার জটিলতায় সমস্যা হয়। পর্যাপ্ত জনবল থাকলে প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম দ্রুত সম্কন্ন করা সম্ভব হতো।

উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্নিমেষ দেওয়ান বলেন, জনবল ঘাটতির কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকলে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে দপ্তরের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের ওপর কাজের চাপ বাড়ছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলজিইডির সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলে উন্নয়নকাজের গতি ও মান আরও বাড়বে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়িতে সংস্থাটির আওতায় প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পিচঢালা ও ইটসলিং সড়ক প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। বর্তমানে প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান। পাশাপাশি প্রায় ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের বিভিন্ন সেতু নির্মাণের কাজও চলছে।

আগামী দিনে জেলার আরও প্রায় এক হাজার কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের প্রকল্প প্রস্তাবিত রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল নিশ্চিত করা না গেলে কাজের তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।