শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২:২৪, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ঋণমান ‘বিবিবি প্লাস’, বেড়েছে লোকসান

মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ঋণমান ‘বিবিবি প্লাস’, বেড়েছে লোকসান

ছবি সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাইডাস ফাইন্যান্সিং পিএলসি দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘বিবিবি প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-৩’ অর্জন করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ২০২৬ হিসাব বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির এ ঋণমান নির্ধারণ করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং পিএলসি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে ঋণমানের এ প্রত্যয়ন এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক কার্যক্রমে ধারাবাহিক লোকসানের চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরে মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৪০ পয়সায়। আগের হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ২৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৬৬ পয়সায়। আগের বছর যেখানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস ৪ টাকা ৭৩ পয়সা ছিল, সেখানে সর্বশেষ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি নিট দায়ে চলে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবিবি প্লাস’, স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’: আলফা ক্রেডিট রেটিংয়ের নির্ধারণ অনুযায়ী, মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘বিবিবি প্লাস’। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ঋণমান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এসটি-৩’। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রত্যয়ন করা হয়েছে।

ঋণমান সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, দায় পরিশোধের সামর্থ্য, ব্যবসায়িক ঝুঁকি, পরিচালনাগত অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক ও গুণগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারণ করা হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণমান শুধু মুনাফা বা লোকসানের একটি সূচকের ওপর নির্ভর করে না। বরং সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যবসায়িক অবস্থার বিভিন্ন দিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হয়।

মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রেও ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টানা কয়েক বছর ধরে মুনাফার বদলে লোকসান দেখা যাচ্ছে এবং সর্বশেষ হিসাব বছরে লোকসানের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

এক বছরে লোকসান বেড়েছে কয়েক গুণ: মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৩ টাকা ৪০ পয়সা। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ২৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ২১ টাকা ১৬ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধি অত্যন্ত বড়। ফলে কোম্পানিটির আয়-ব্যয় কাঠামো এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর লোকসানের প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। শুধু সর্বশেষ বছর নয়, এর আগের কয়েক বছরেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ফলাফলে ধারাবাহিক চাপ দেখা গেছে।

২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪ টাকা ৬৬ পয়সা। এর আগের হিসাব বছরে অর্থাৎ ২০২২ সালে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬ পয়সা। ফলে ২০২২ সালের সামান্য মুনাফার পর ২০২৩ সালে কোম্পানিটি লোকসানে চলে যায়।

এরপর ২০২৪ সালে লোকসান কিছুটা কমে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ২৪ পয়সায় নামলেও ২০২৫ সালে তা আবার ব্যাপকভাবে বেড়ে ২৩ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এ ধরনের আর্থিক ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির আয় উৎপাদন সক্ষমতা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

চার বছর ধরে লভ্যাংশে অনুপস্থিতি: মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের আর্থিক অবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লভ্যাংশ না দেওয়া।

সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর আগে ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৩ হিসাব বছরেও বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

অর্থাৎ টানা তিন হিসাব বছরে কোনো লভ্যাংশ পায়নি বিনিয়োগকারীরা। এর আগে ২০২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটির পর্ষদ।

একদিকে ধারাবাহিক লোকসান এবং অন্যদিকে লভ্যাংশ না দেওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত নগদ লভ্যাংশের মাধ্যমে বিনিয়োগ থেকে আয় প্রত্যাশা করেন, তাদের কাছে কোম্পানিটির সামপ্রতিক আর্থিক পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এনএভিপিএসে বড় পরিবর্তন: মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএসের গত কয়েক বছরের তথ্যেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা যায়।

২০২২ হিসাব বছরের শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ১১ টাকা ৬০ পয়সা। ২০২৩ সালের শেষে তা কমে দাঁড়ায় ৬ টাকা ৭৯ পয়সায়। এরপর ২০২৪ সালের শেষে এনএভিপিএস আরও কমে ৪ টাকা ৭৩ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরের শেষে আবার কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের পরিবর্তে শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৬৬ পয়সা। এনএভিপিএসের এ ধরনের পরিবর্তন কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার ওপর লোকসানের প্রভাবের বিষয়টি সামনে আনে। বিশেষ করে সম্পদের বিপরীতে দায়ের অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচক।

২০২২ সালে সামান্য মুনাফা: ২০২২ হিসাব বছরে মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬ পয়সা। এর আগের হিসাব বছরে এ আয় ছিল ৫৯ পয়সা। অর্থাৎ ২০২২ সালেই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

এরপর ২০২৩ সালে কোম্পানিটি মুনাফা ধরে রাখতে পারেনি। ওই বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৪ টাকা ৬৬ পয়সা। ২০২৪ সালে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমে ২ টাকা ২৪ পয়সায় এলেও ২০২৫ সালে পরিস্থিতির বড় অবনতি ঘটে। ওই বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান ২৩ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছে যায়।

ফলে গত কয়েক বছরের আর্থিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের আয় থেকে লোকসানে চলে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে লোকসান বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়।

পুঞ্জীভূত লোকসান ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

পুঞ্জীভূত লোকসান কোনো কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ধারাবাহিক লোকসানের ফলে কোম্পানির সংরক্ষিত আয় কমে যেতে পারে এবং শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বশেষ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়ে যাওয়া এবং পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৭৫ কোটি টাকার বেশি হওয়া কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বাড়তি নজর দেওয়ার কারণ তৈরি করেছে।

মূলধন কাঠামো: ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় মাইডাস ফাইন্যান্সিং। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৪৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার ৫০৭টি। শেয়ার ধারণের দিক থেকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ সবচেয়ে বেশি। মোট শেয়ারের ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে দশমিক ৪১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার।

শেয়ার ধারণের এ কাঠামো থেকে দেখা যায়, সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীরই কোম্পানিটিতে উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। ফলে কোম্পানির আর্থিক ফলাফল ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কর্মদক্ষতা এসব বিনিয়োগকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংশীদারি: মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের মোট শেয়ারের ৩৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে।

এ কারণে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফল, লভ্যাংশ নীতি, ঋণমান এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে সর্বশেষ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি ২৩ টাকা ৪০ পয়সা লোকসান এবং শেয়ারপ্রতি ১৮ টাকা ৬৬ পয়সা নিট দায়ের তথ্য প্রকাশের পর কোম্পানিটির আর্থিক পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে ঋণমান নির্ধারণের বিষয়টি আলাদা একটি মূল্যায়ন। একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণমান নির্ধারণের সময় শুধু শেয়ারপ্রতি আয় বা লোকসান নয়, বরং সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ঋণমান ও আর্থিক ফলাফল—দুই তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ: মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। একদিকে আলফা ক্রেডিট রেটিং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির ঋণমান ‘বিবিবি প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’ নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে বড় অঙ্কের লোকসান দেখা গেছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য এই দুই তথ্যকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। ঋণমান কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন দেয়। অন্যদিকে শেয়ারপ্রতি আয়, লোকসান, এনএভিপিএস, পুঞ্জীভূত লোকসান ও লভ্যাংশ কোম্পানির আর্থিক কর্মদক্ষতা ও শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ফলে শুধু ঋণমান কিংবা শুধু লোকসানের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানির সামগ্রিক অবস্থান মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। বরং বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন, দায়-দেনা, নগদ প্রবাহ, ব্যবসার ভবিষ্যৎ, পরিচালনাগত সক্ষমতা এবং ঋণমান—সবগুলো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আর্থিক পুনরুদ্ধার: মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো—আর্থিক ফলাফলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। কারণ সামপ্রতিক কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা থেকে লোকসানে গেছে এবং সর্বশেষ বছরে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

একই সঙ্গে লভ্যাংশের ধারাবাহিকতাও বন্ধ রয়েছে। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে কোম্পানিটিকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানো, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ করে শেয়ারপ্রতি নিট দায়ের অবস্থান থেকে আবার ইতিবাচক নিট সম্পদমূল্যে ফিরে আসা কোম্পানিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লক্ষ্য হতে পারে। মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের সর্বশেষ চিত্রে একদিকে ক্রেডিট রেটিংয়ের ‘বিবিবি প্লাস’ প্রত্যয়ন রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বড় অঙ্কের লোকসান, পুঞ্জীভূত লোকসান এবং শেয়ারপ্রতি নিট দায়। ফলে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসায়িক কর্মদক্ষতার দিকে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।