শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মাজহারুল ইসলাম (কাঞ্চন), গাজীপুর

প্রকাশ: ২২:০৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপাড়া পুকুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পুকুরে নেমে ময়লা তুললেন এমপি রনি

পুকুরে নেমে ময়লা তুললেন এমপি রনি

ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা গাজীপুর মহানগরীর  দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকার সরকারি মহিলা কলেজসংলগ্ন মধ্যপাড়া পুকুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ডেঙ্গু ও এডিস মশার প্রজনন রোধ, জলাধার সংরক্ষণ এবং গাজীপুর সিটিকে ক্লিন-গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির উদ্যোগে এবং বিডি ক্লিনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে এমপি রনি নিজেই পুকুরে নেমে লোহার আঁকড়া দিয়ে টেনে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কারে অংশ নেন। পাশাপাশি ভেকু দিয়ে পুকুর থেকে কচুরিপানা, বর্জ্য ও জমে থাকা ময়লা অপসারণ করা হয়। বিডি ক্লিনের সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মীর হালিমুজ্জামান রনি, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদউজ্জামান, আহমদ আলী রুশদি, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্যানেল মেয়র হাসান আজমল ভূঁইয়া, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আ ক ম মোফাজ্জল হোসেন, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্কাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল, বিএনপি নেতা খায়রুল বিএসসি, জহিরুল ইসলাম জিটু, মহানগর কৃষক দলের সদস্যসচিব খান জাহিদুল ইসলাম নিপু, জাকির হোসেন তারেক, শাহানুর আলম ও শফিকুল ইসলাম মিলু।

কর্মসূচিতে এমপি রনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি পরিত্যক্ত থাকায় ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা ও আগাছায় এর বড় একটি অংশ ভরে গেছে। এতে পুকুরটির নাব্য কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একসময় স্থানীয় মানুষ গোসলসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে পুকুরটির পানি ব্যবহার করতেন। এখন এটি  ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে এর ব্যবহারযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা এবং আশপাশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও এডিস মশার প্রজনন রোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এমপি রনি স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, পুকুরটি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসন বা কোনো সংগঠনের নয়; স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। পুকুরে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নিজেদের আঙিনার মতো জলাধারটি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি। রনি আরও বলেন, শহরের অন্যান্য পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ পুকুরও পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭টি বৎসর এসব এলাকা অবহেলিত ছিল।  স্বৈরাচার সরকারের আমলে এসব এলাকায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিএনপি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ ও মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একযোগে কাজ করছি।

সকল ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যকে প্রতিহত করতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে রয়েছে। উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মধ্যপাড়া পুকুরের ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা অপসারণের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। পুকুর পরিষ্কারের পর এর পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।