গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত
গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের আয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে কর্মক্ষম করে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বকনা গরু ও অন্যান্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামে যারা বসবাস করে এবং যারা বস্তিবাসী—অবহেলিত এসব মানুষকে কর্মক্ষম করা, তাদের কর্মসংস্থান করা ও আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।’ এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।
আব্দুল বারী বলেন, সমাজসেবা ও সমাজকর্ম বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি যারা এখনো এসব সুবিধার আওতায় আসেননি, তাদেরও পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কালাইয়ে ৩৭৫ জন ব্যক্তি বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে ১১৫ জনকে একটি করে বকনা গরু দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার, ৫০টি করে মুরগি ও মুরগির ঘর এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মুদি দোকানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিতরণ করা গরুগুলোর চিকিৎসা ও টিকাদানের জন্য উপজেলার চারটি কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি ও সার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই রয়েছে। এ কারণে জ্বালানির দাম বাড়াতে হয়েছে। তার দাবি, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং জয়পুরহাট জেলায় গোডাউনের বাইরেও অতিরিক্ত চার হাজার মেট্রিক টন সার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
খাদ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘খাদ্যের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা তাদের ধানের যথাযথ মূল্য পেয়েছে।’ তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন ধান ও ১৩ লাখ ২০ হাজার টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি।’ তবে তাঁর দাবি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি কমানো, টাকার মান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। এর আগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ।
সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের (এসডিএস) বাস্তবায়নে ‘আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ১১৫টি পরিবারের মধ্যে বকনা গরু বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসডিএসের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও উপদেষ্টা একেএম মাসুদুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক আয়েশা আক্তার, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ-আল-মাহবুব, কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান ও উপজেলা প্রাণিসম্কদ কর্মকর্তা ডা. মো. মুনিরুজ্জামান।