শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২:১২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরতের নতুন স্কিম

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরতের নতুন স্কিম

ছবি সংগৃহীত

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য নতুন স্কিম অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেশি আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট হারে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

স্কিম অনুযায়ী, ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক। এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে প্রথম এক কোটি টাকার জন্য ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।

দেড় কোটি থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে প্রথম দেড় কোটি টাকার বিপরীতে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৪০ শতাংশ ফেরত পাবেন আমানতকারী। আর দুই কোটি টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রথম দুই কোটি টাকার জন্য এক কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৩০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।

অর্থাৎ, কারও আমানত তিন কোটি টাকা হলে তিনি এক কোটি ২৫ লাখ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত এক কোটি টাকার ৩০ শতাংশ হিসেবে আরও ৩০ লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে ফেরত পাবেন এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। গত ৯ আগস্ট এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এমডির পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেয় কেন্দ ীয় ব্যাংক। প্রশাসকদের সহায়তায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুজন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ ীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চার প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠান চারটিতে মোট আমানতের পরিমাণ ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে পাঁচ হাজার ৩৬৮ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে এক হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা আমানত রয়েছে।

এর আগে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখান থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়। তবে পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় এর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে উন্নতি না হলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স।