শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিবিএ বৈঠকে সম্মানী এক হাজার টাকা

বাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন কমিটির ভাতা

বাড়ল বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন কমিটির ভাতা

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন কমিটি, নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম, পরীক্ষা এবং বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানীর হার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্টের (সিবিএ) সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ দরকষাকষি সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের সম্মানীও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিবিএর সঙ্গে যৌথ দরকষাকষি আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক সদস্য এখন থেকে দৈনিক এক হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। অন্যদিকে নিয়োগসংক্রান্ত কাজে সহযোগিতা করা কর্মচারীদের সম্মানী দ্বিগুণ করে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক পরিপত্র জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক পরিপত্র নম্বর ২৭-এ বিভিন্ন পরীক্ষা, কমিটি, তদন্ত, শুনানি ও বিশেষ কাজে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বহিঃসদস্যদের সম্মানীর নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মানীর হার ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা বিভিন্ন সম্মানীর হার পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নতুন আর্থিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তে সিবিএর সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ দরকষাকষি আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের সম্মানীর বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। নতুন নিয়মে এ ধরনের সভায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক সদস্য দৈনিক এক হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। কর্মীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, প্রশাসনিক বিষয় এবং কর্মপরিবেশ-সংক্রান্ত নানা ইস্যুতে কর্তৃপক্ষ ও সিবিএর মধ্যে আলোচনা হয়ে থাকে। এসব আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের জন্য এখন নির্ধারিত হারে দৈনিক সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যৌথ দরকষাকষি সভা বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য সিবিএ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন। নতুন সম্মানী নির্ধারণের ফলে এ ধরনের সভায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা আগের তুলনায় বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন, পরীক্ষার্থীদের ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, পরীক্ষা কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়সহ নানা কাজে সহায়ক জনবল যুক্ত থাকে। এসব কাজে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানীর হারও নতুন করে নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগসংক্রান্ত কাজে সহায়তাকারী অতিরিক্ত পরিচালক পাবেন ৩ হাজার ৫০০ টাকা। যুগ্ম পরিচালক ও উপপরিচালকের জন্য সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। সহকারী পরিচালক ও উপসহকারী পরিচালক পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা। আর কর্মচারীদের সম্মানী করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সম্মানী বৃদ্ধির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। এতদিন নিয়োগসংক্রান্ত কাজে সহযোগিতার জন্য একজন কর্মচারী ৭৫০ টাকা সম্মানী পেতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সম্মানী বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় দ্বিগুণ সম্মানী পাবেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগসহ বিভিন্ন মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য গঠিত বোর্ডের সদস্যদের সম্মানীর হারও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের প্রত্যেক সদস্য ১২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

অন্যদিকে ১১তম গ্রেড থেকে নিচের কর্মকর্তাদের মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। এর ফলে কর্মকর্তা পর্যায় ও গ্রেডভেদে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্যদের জন্য পৃথক সম্মানী কাঠামো কার্যকর হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রমে মৌখিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এ সময় বোর্ডের সদস্যদের প্রার্থী মূল্যায়ন, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হয়। নতুন সম্মানীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালনের জন্য আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন সংশ্লিষ্টরা।

মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাইরের বিশেষজ্ঞ ও বহিঃসদস্যদের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান রাখা হয়েছে। যেসব বহিঃসদস্য বা বিশেষজ্ঞ সদস্য নিজ দপ্তর থেকে গাড়ি সুবিধা পান না কিংবা সরকারের সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধা পাওয়ার প্রাধিকারপ্রাপ্ত নন, তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকে নিয়ে আসা এবং বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে প্রতিবার তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

এর ফলে নিয়োগসংক্রান্ত মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করতে আসা বহিঃসদস্যদের যাতায়াতসংক্রান্ত বিষয়টিও নতুন সম্মানী কাঠামোর আওতায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে নির্ধারিত অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমন্বয় করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রালয় নির্মাণ ও সংস্কার, পেইন্টিং ক্রয় এবং মুদ্রালয় পরিদর্শন-সংক্রান্ত সভায় অংশগ্রহণকারী কমিটির সদস্যদের সম্মানীর হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব সভায় দায়িত্ব পালনকারী কমিটির প্রত্যেক সদস্য ৭ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী পাবেন।

মুদ্রালয়-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম যুক্ত রয়েছে। নির্মাণ, সংস্কার, ক্রয় এবং পরিদর্শনের মতো কাজে গঠিত কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হয়। নতুন পরিপত্রে এসব দায়িত্বের জন্য নির্ধারিত সম্মানী কাঠামো স্পষ্ট করা হয়েছে।

নোট ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্যদের সম্মানীর ক্ষেত্রেও নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কমিটির বহিঃসদস্যরা ১৫ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সদস্য বা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

নোটের নকশা প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাইরের বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত হতে পারেন। নতুন কাঠামোয় বহিঃসদস্য ও অভ্যন্তরীণ সদস্যের জন্য পৃথক সম্মানীর হার রাখা হয়েছে।

ধাতব মুদ্রার ডিজাইন এবং ধাতব উপাদান নির্ধারণের জন্য গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের সম্মানীর হারও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ কমিটির সদস্যরা ৩ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী পাবেন।

ধাতব মুদ্রার নকশা, গঠন ও উপাদান নির্ধারণে কারিগরি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং কারিগরি মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়। এ কারণে এ ধরনের কাজে যুক্ত কমিটির সদস্যদের জন্যও নির্দিষ্ট সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত তদন্ত ও শুনানি কার্যক্রমেও নতুন সম্মানী কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। তদন্ত বা শুনানি কমিটির প্রধান কিংবা সদস্যকে ১০ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত ও শুনানি কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তাকারী কর্মকর্তার জন্য সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।

শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের কোনো ঘটনায় তদন্ত বা শুনানি পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, তথ্য যাচাই এবং প্রতিবেদন তৈরিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে কমিটির সদস্যরা যুক্ত থাকেন। নতুন সিদ্ধান্তে এসব দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত সম্মানীর হার বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রশাসনিক পরিপত্রে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্বের জন্য সম্মানীর হার একসঙ্গে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশের মতো বৃদ্ধি থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে সম্মানী দ্বিগুণ হয়েছে। নিয়োগসংক্রান্ত কাজে সহায়ক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ায় এই দায়িত্বের সম্মানী ১০০ শতাংশ বেড়েছে।

একইভাবে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ড, বিশেষজ্ঞ সদস্য, কারিগরি কমিটি, তদন্ত ও শুনানি কমিটি এবং সিবিএর সঙ্গে যৌথ দরকষাকষি সভায় অংশগ্রহণকারীদের জন্যও নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অতিরিক্ত ও বিশেষ দায়িত্বের বিপরীতে প্রদেয় সম্মানীর একটি নতুন কাঠামো তৈরি হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-১ থেকে জারি করা প্রশাসনিক পরিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, কমিটির সদস্য এবং বিশেষজ্ঞরা নতুন হারে সম্মানী পাবেন। নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে সিবিএ বৈঠক, নোট ও মুদ্রার নকশা, মুদ্রালয়-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং শৃঙ্খলামূলক তদন্ত—বিভিন্ন ধরনের দায়িত্বই নতুন এই কাঠামোর আওতায় এসেছে।

ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কমিটি ও বিশেষ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য সম্মানীর ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এলো। এর মধ্যে সিবিএর সঙ্গে যৌথ দরকষাকষি সভায় অংশ নেওয়া সদস্যদের দৈনিক এক হাজার টাকা এবং নিয়োগসংক্রান্ত কাজে সহায়ক কর্মচারীদের ১ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী নির্ধারণের বিষয়টি নতুন পরিপত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে সামনে এসেছে।