অর্থমন্ত্রীকে চিঠি
শাহ আমানত বিমানবন্দর ঘিরে চট্টগ্রাম চেম্বারের পাঁচ দফা প্রস্তাব
ছবি সংগৃহীত
চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। এ লক্ষ্যে ৪০ শতাংশ প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু রাখা, দীর্ঘপথের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা নিশ্চিত এবং বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি বা সিএফএস স্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, একাধিক রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অধিকাংশ শিল্প-কারখানা চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
চেম্বার মনে করে, বর্তমান সক্ষমতার মধ্যেই বিমানবন্দরে আরও বেশি যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট এবং সংযোগকারী উড়োজাহাজ চলাচল আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে। ঢাকা-কেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর চাপ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে পূর্ব-পশ্চিম আকাশপথ এবং পর্যটন ও লজিস্টিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলারও সুযোগ রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিমানবন্দর-সংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরু উভয়ের জন্য কার্গো ভিলেজ এবং আইসিডি/সিএফএস স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এসব অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বিওও ও বিওওটি পদ্ধতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম ও আগ্রহী।
চেম্বারের পাঁচ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছুে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া; আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ৪০ শতাংশ অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ নির্ধারণ; দীর্ঘপথের ফ্লাইটের বিরতির সময় যাত্রী ওঠানামার সুবিধা দেওয়া; সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘপথের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, বিওও বা বিওওটি পদ্ধতিতে কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি বা সিএফএস স্থাপন করা।
চিঠিতে চেম্বার উল্লেখ করে, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা ও এর সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অধিক ট্রাফিক আকর্ষণ এবং এর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চেয়েছে চিটাগাং চেম্বার।