অবশেষে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার বেড়েছে লেনদেন
ছবি সংগৃহীত
টানা তিন কার্যদিবস পতনের পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে দুই বাজারেই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর আগে সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হয়।
টানা দরপতনের পর গত বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এমনকি শেষদিকে দাম বাড়ার প্রবণতা আরও বাড়ে।
ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ২৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ভালো কোম্কানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৪টির দাম কমেছে এবং ২৪টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬১টি কোম্কানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্কানিগুলোর মধ্যে ৭২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২২টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া ১২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে তিনটির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্কানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্কানিটির ১৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—এনভয় টেক্সটাইল, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ব্যাংক, মতিন টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, অ্যাপেক্স স্কিনিং এবং সোনালী আঁশ।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭০টির দাম কমেছে এবং আটটির দাম অপরিবর্তিত। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪০ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা।