পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা তুলতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার
শেয়ার বিজ
প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবসা সম্ক্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে পুঁজিবাজার থেকে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। এ লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে আবেদন করেছে কোম্কানিটি। প্রস্তাবিত আইপিওর অর্থের বড় অংশ দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান ঋণের আংশিক পরিশোধ ও আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতেও অর্থ ব্যবহার করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে ৪০০ কোটি টাকার এই মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, কোম্কানির আর্থিক ও ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই এবং বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ওপর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আইপিও অনুমোদনের আবেদন জমা দিয়েছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি। ২০২৫ সালের পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অন্যান্য প্রযোজ্য আইন ও নির্দেশনা অনুসারে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আবেদনটি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরই কোম্কানিটির আইপিওর পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুমোদনপ্রক্রিয়া এগোলেও এখনো পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের চূড়ান্ত অনুমতি পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্কানিটির পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ। আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের প্রধান অংশ দুটি প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো এবং উৎপাদন সক্ষমতায় বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কোম্কানিসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। তবে প্রস্তাবিত দুই প্রকল্পে পৃথকভাবে কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে, প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্য উৎপাদনক্ষমতা কত এবং কবে নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে; সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে জ্বালানির উৎস, উৎপাদন ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির ব্যবসায়িক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে প্রবেশের মাধ্যমে কোম্কানিটি ভবিষ্যতে আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চায়। তবে এ ধরনের প্রকল্পের কার্যকারিতা নির্ভর করে প্রকল্প ব্যয়, অর্থায়নের শর্ত, জমি ও অবকাঠামোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তি নির্বাচন, বিদ্যুৎ বিক্রির ব্যবস্থা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। ফলে শুধু বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণার ভিত্তিতে প্রকল্পের সম্ভাব্য মুনাফা বা কোম্কানির ভবিষ্যৎ আর্থিক ফলাফল সম্কর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি ২০১৭ সালে কনফিডেন্স গ্রুপের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোম্কানিটি স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মধ্যে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে মোট ৩৯৩ দশমিক ৩৬৩ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্কন্ন চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে এ কার্যক্রমই কোম্কানিটির ব্যবসায়িক ভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে উৎপাদনক্ষমতা ও বাস্তব আয়-উপার্জন এক বিষয় নয়। কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা থাকলেই সেই ক্ষমতার পুরোটা সময়জুড়ে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম, চুক্তির শর্ত, জ্বালানির প্রাপ্যতা, উৎপাদন ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতি আর্থিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির প্রস্তাবিত আইপিও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোম্কানিটির বিদ্যমান উৎপাদনক্ষমতার পাশাপাশি প্রকৃত আয়, পরিচালন ব্যয়, দায় এবং নগদ প্রবাহের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিদ্যমান ঋণ পরিশোধে ব্যয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে কোম্কানিটির। এর মাধ্যমে মূলধন কাঠামো উন্নত করা এবং আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কোনো কোম্কানি পুঁজিবাজার থেকে ইক্যুইটি মূলধন সংগ্রহ করে ঋণের একটি অংশ পরিশোধ করলে ঋণ ও নিজস্ব মূলধনের অনুপাত, সুদ ব্যয়ের চাপ এবং ভবিষ্যৎ অর্থায়নের সক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে মোট ঋণের পরিমাণ, ঋণের সুদের হার, পরিশোধের সময়সূচি এবং আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থের কত অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যবহূত হচ্ছে তার ওপর।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধে কত টাকা ব্যয় করা হবে, তা সরবরাহ করা তথ্যে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের পৃথক বরাদ্দও প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে প্রস্তাবিত ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প বিনিয়োগ, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ের অনুপাত সম্কর্কে এখনই সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। চূড়ান্ত প্রসপেক্টাসে এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হলে বিনিয়োগকারীরা অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা আরও স্কষ্টভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
প্রস্তাবিত আইপিওর অংশ হিসেবে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে রোড শো আয়োজন করে কোম্কানিটি। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের সামনে কোম্কানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক ঝুঁকি এবং আইপিওর অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। রোড শো সাধারণত সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে কোম্কানির ব্যবসায়িক মডেল ও আর্থিক তথ্য উপস্থাপন এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত ধারণা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে রোড শো অনুষ্ঠিত হওয়া বা বিনিয়োগকারীদের সামনে পরিকল্পনা তুলে ধরার অর্থ আইপিও অনুমোদন পাওয়া নয়।
রোড শো শেষে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আইপিওর অনুমোদনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ডিএসইর কাছে আবেদন জমা দেয় কোম্কানিটি। আবেদনের সঙ্গে ডিএসইর অনুকূলে মিডল্যান্ড ব্যাংক থেকে ইস্যু করা ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার, কোম্কানির নিবন্ধন সনদ, সংঘস্মারক ও সংঘবিধির অনুলিপি, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, পরিচালকদের সম্মতিপত্র, জমির মালিকানাসংক্রান্ত নথি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেড হেরিং প্রসপেক্টাসের ছয়টি কপিও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে এসব নথির গুরুত্ব রয়েছে। কোম্কানির নিবন্ধন ও সাংগঠনিক নথি প্রতিষ্ঠানটির আইনগত পরিচয় ও কাঠামো সম্কর্কে তথ্য দেয়। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং পরিচালকদের সম্মতিপত্রের মাধ্যমে প্রস্তাবিত মূলধন সংগ্রহের বিষয়ে কোম্কানির অভ্যন্তরীণ অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপিত হয়। অন্যদিকে জমির মালিকানাসংক্রান্ত নথি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের তালিকা কোম্কানির সম্কদ ও কার্যক্রমের সঙ্গে সম্কর্কিত তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলেই সব তথ্য যাচাই সম্কন্ন হয়েছে বা আবেদন অনুমোদনের যোগ্য বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির আইপিও আবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ। এ পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেয়ারের কাট-অফ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এরপর প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের মূল্য ও বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোম্কানির আর্থিক অবস্থান, ব্যবসার সম্ভাবনা, সম্কদ, দায়, ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহ এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়ন ও চাহিদার ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্কন্ন করা। তবে পদ্ধতিটি অনুসরণ করা হলেই শেয়ারের মূল্য অবশ্যই ন্যায্য হবে বা বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত মুনাফা পাবেন—এমন নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। বিনিয়োগকারীদের জন্য তাই প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য, শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য, অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে আইপিওতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোম্কানির অতীত আর্থিক ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের প্রকল্পে প্রাথমিক বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগের বিভিন্ন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুঁজিবাজার থেকে ইক্যুইটি মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে কোম্কানি এসব ব্যয়ের জন্য অর্থায়নের একটি উৎস তৈরি করতে পারে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আইপিওর অর্থ যথেষ্ট হবে কি না, অতিরিক্ত ঋণ বা অন্য কোনো অর্থায়নের প্রয়োজন হবে কি না এবং প্রকল্প থেকে সম্ভাব্য আয় কখন শুরু হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত প্রকল্প পরিকল্পনা ও আর্থিক তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সম্ক্রসারণের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্য উৎপাদন, বিদ্যুৎ বিক্রির ব্যবস্থা, প্রকল্পের মেয়াদ, নির্মাণ ব্যয় এবং পরিচালন ব্যয়ের তথ্য ছাড়া বিনিয়োগের সম্ভাব্য আর্থিক ফলাফল নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন। একইভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা ব্যয় বেড়ে গেলে মূল পরিকল্পনার তুলনায় অর্থায়নের চাহিদা বাড়তে পারে। ফলে আইপিও অনুমোদনের আগে কোম্কানির প্রকাশিত নথিতে প্রকল্পগুলোর বিবরণ ও অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা কতটা স্কষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।
এদিকে বিদ্যমান ঋণের আংশিক পরিশোধের পরিকল্পনাও আইপিওর অর্থ ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ঋণের সুদ ব্যয় কমলে ভবিষ্যতে কোম্কানির মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তবে সেটি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করতে ঋণের ধরন ও শর্ত জানতে হবে। ঋণ পরিশোধের ফলে কোম্কানির দায় কমলেও একই সময়ে নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রাখা প্রয়োজন। ফলে আইপিও থেকে প্রাপ্ত অর্থের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কোম্কানিটির আর্থিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
বর্তমানে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির প্রস্তাবিত আইপিও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ডিএসই আবেদন ও সংযুক্ত নথি পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারে। প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী বিএসইসির সিদ্ধান্তও আইপিওর চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেয়ার ইস্যু, মূল্য নির্ধারণ এবং অর্থ সংগ্রহের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং অন্যদিকে বিদ্যমান ঋণের আংশিক পরিশোধের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্কানিটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে ৩৯৩ দশমিক ৩৬৩ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্কন্ন চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এখন নতুন প্রকল্পে সম্ক্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, আইপিওর অর্থ ব্যবহারের বিস্তারিত হিসাব, কোম্কানির আর্থিক সক্ষমতা এবং শেয়ারের মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্কন্ন হওয়ার পরই স্কষ্ট হবে, পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।