তিন বাণিজ্যিক সম্পদ বিক্রি করবে মাইডাস ফাইন্যান্স
ছবি সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের তিনটি বাণিজ্যিক সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। প্রচলিত বাজারদরে এসব সম্পদ বিক্রি করা হবে। তবে সম্পদ বিক্রির কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে শেয়ারহোল্ডারদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে।
গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের ৩৯৯তম সভায় গত ২৭ আগস্ট বিকাল ৩টায় এসব সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সম্পদগুলো বিক্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ।
কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিক্রির তালিকায় থাকা তিনটি বাণিজ্যিক সম্পদের একটি রাজধানীর ধানমন্ডিতে, একটি চট্টগ্রামের খুলশীতে এবং অন্যটি বগুড়া সদরের বড়গোলা এলাকায় অবস্থিত।
বিক্রির জন্য নির্ধারিত সম্পদগুলোর মধ্যে প্রথমটি রাজধানীর ধানমন্ডির নাহার গ্রিন সামিটে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক ফ্লোর স্পেস। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সম্পত্তিটির ঠিকানা হোল্ডিং নম্বর ৪৩ (নতুন), ৩০৫ (পুরোনো), রোড নম্বর ১৬ (নতুন), ২৭ (পুরোনো), ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯।
ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এই বাণিজ্যিক ফ্লোর স্পেসের সঙ্গে রয়েছে আটটি গাড়ি পার্কিং। অর্থাৎ সম্পত্তিটি শুধু অফিস বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জায়গা নয়, এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পার্কিং সুবিধাও রয়েছে। মাইডাস ফাইন্যান্সিং জানিয়েছে, অন্যান্য সম্পদের মতো এই সম্পত্তিও প্রচলিত বাজারদরে বিক্রি করা হবে।
বিক্রির দ্বিতীয় সম্পদটি রয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায়। জাকির হোসেন রোডের ৬২ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত এক্সেল এসএম টাওয়ারের প্রথম তলায় থাকা একটি বাণিজ্যিক ফ্লোর স্পেস বিক্রি করবে কোম্পানিটি। এই সম্পত্তির সঙ্গে রয়েছে একটি গাড়ি পার্কিং। ফলে ঢাকার বাইরে কোম্পানিটির মালিকানাধীন এই বাণিজ্যিক সম্পদও এখন বিক্রির প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে।
তৃতীয় সম্পদটি রয়েছে বগুড়া সদরের রংপুর রোডের বড়গোলা এলাকায় অবস্থিত জামিল শপিং সেন্টারে। শপিং সেন্টারটির তৃতীয় তলায় থাকা বাণিজ্যিক জায়গাটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাইডাস ফাইন্যান্সিং। এর সঙ্গেও একটি গাড়ি পার্কিং রয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া তিন সম্পদের মধ্যে দুটি বাণিজ্যিক ফ্লোর স্পেসের সঙ্গে একটি করে গাড়ি পার্কিং এবং ধানমন্ডির সম্পত্তির সঙ্গে আটটি গাড়ি পার্কিং রয়েছে।
মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনটি সম্পদই প্রচলিত বাজারদরে বিক্রি করা হবে। তবে সম্পদগুলোর সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য বা ক্রেতার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে বাজারদর বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে এসব সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানি কত অর্থ পাবে এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনা, তারল্য পরিস্থিতি কিংবা ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে প্রকাশিত তথ্যে সম্পদ বিক্রির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
পরিচালনা পর্ষদ সম্পদগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও এখনই সেগুলো বিক্রি করতে পারছে না মাইডাস ফাইন্যান্সিং। কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, বিক্রয় কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে।
এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পাওয়ার পর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষেই সম্পদগুলো বিক্রির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্তে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার সম্পত্তি রয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডি, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের খুলশী এবং উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর বগুড়ায় থাকা সম্পদগুলো বিক্রি করা হবে।
এর মধ্যে ধানমন্ডির সম্পত্তির সঙ্গে আটটি পার্কিং থাকায় এটি তুলনামূলকভাবে বড় সম্পদ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও বগুড়ার সম্পত্তির সঙ্গে একটি করে গাড়ি পার্কিং রয়েছে। তবে কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে এসব সম্পত্তির আয়তন, বইমূল্য, বর্তমান বাজারমূল্য বা প্রত্যাশিত বিক্রয়মূল্য জানানো হয়নি।
পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর এখন শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব অনুমোদন পাওয়ার পরই সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যাবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উল্লেখযোগ্য সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যথাযথ অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সম্পদ বিক্রির মূল্য নির্ধারণ, ক্রেতা নির্বাচন এবং বিক্রয় থেকে পাওয়া অর্থের ব্যবহার বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে। মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে এসব সম্পদ কোন দামে বিক্রি হয় এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ কোম্পানির কোন কাজে ব্যবহার করা হয়, তা পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।
তিনটি বাণিজ্যিক সম্পদ প্রচলিত বাজারদরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সম্পদগুলোর প্রকৃত বিক্রয়মূল্য। কারণ বাজারদর অনুযায়ী সম্পদ বিক্রি হলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় এর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে সম্পদগুলোর বইমূল্য ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের ওপর।
এ ছাড়া সম্পদ বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ কোম্পানি কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি অর্থ ব্যবসার সমপ্রসারণ, দায় পরিশোধ কিংবা তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর প্রভাব কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় পড়তে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মাইডাস ফাইন্যান্সিং।
ধানমন্ডি, চট্টগ্রামের খুলশী ও বগুড়ার বড়গোলায় থাকা তিনটি বাণিজ্যিক সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ। ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সম্পদগুলোর বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে। কোম্পানির জন্য এই সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ কতটা আর্থিক সুবিধা তৈরি করে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের।