পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা
ছবি সংগৃহীত
দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। লেনদেন কমতে কমতে তিনশ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। ফলে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের হতাশাও বাড়ছে।
গতকাল রোববার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে তিনশ কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরে থাকলো। চলতি বছরে এই প্রথম দুই কার্যদিবস লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরে থাকার ঘটনা ঘটলো। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লিখিয়েছে। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। তবে বাজারটিতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আধাঘণ্টার বেশি সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকেনি। বরং প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেন পার হওয়ার পর লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার প্রবণতা চলতে থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হলো। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২১৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এছাড়া ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৫টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৬টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৬টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া একটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৮টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিতডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তবে লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরেই রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সোনালি আঁশের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। ১২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, পূবালী ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭২টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৬ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।