শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২:৫৫, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পুঁজিবাজারে লেনদেন নামল ৩০০ কোটি টাকার ঘরে

পুঁজিবাজারে লেনদেন নামল ৩০০ কোটি টাকার ঘরে

ছবি সংগৃহীত

দরপতনের সঙ্গে লেনদেন খরা দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গতকাল শনিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন কমে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। এতে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর ডিএসইতে সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরুহয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষেও সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে লেনদেনের শেষদিকে বাজারে একপ্রকার ঢালাও দরপতন হয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে মাত্র ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২০টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৭টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টির এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৬টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯০ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৮২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর ডিএসইতে সব থেকে কম লেনদেন হলো। গত ২৯ ডিসেম্বর ডিএসইতে ৩০৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ইভিন্স টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকার। ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মতিন স্পিনিং।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—সোনালী আঁশ, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপেক্স স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সিটি ব্যাংক এবং সোনালী লাইফ। অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৯টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।