শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিনিধি, শেরপুর

প্রকাশ: ১১:১৪, ২০ আগস্ট ২০২৬

নারীর প্রলোভন দেখিয়ে খুন অটোচালক মান্নাছকে

নারীর প্রলোভন দেখিয়ে খুন অটোচালক মান্নাছকে

ছবি সংগৃহীত

শেরপুরে প্রায় তিন বছর পর এক অটোচালক হত্যা মামলার তদন্তে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ‘পিবিআই’। শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম টালকি গ্রামের দরিদ্র অটোচালক মন্নাছের অটোরিকশা আত্মসাতের লক্ষ্যে একই গ্রামের মোস্তাকিন (৩০), পার্শ্ববর্তী ভূর্দি গ্রামের মো. শাহিন (৪০) এবং টালকি গ্রামের মো. স্বপন (৪২) তাকে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিলের পারে হত্যা করে এবং তার অটোরিকশার যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে শহরের পুরোনো গরুহাটির পিবিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভাড়ায় অটোরিকশা চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুদিন পর ২৫ ডিসেম্বর সকালে তার মৃতদেহ পাঠাকাটা বাঘমারি বিলে কাদামুক্ত মাটিতে কচুরিপানার নিচে পুঁতা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে নকলা থানা পুলিশ মন্নাছের মরদেহ উদ্ধার করে। এই মরদেহ উদ্ধারের সময় হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি স্বপন সঙ্গে থেকে লাশ উদ্ধার করলেও কেউ বিষয়টি তখন সন্দেহ করতে পারেনি। এ ঘটনায় পরে মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার ওইদিন অজ্ঞাতনামা আসামি করে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর বেশ কিছুদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে নকলা থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্যের কিনারা খুঁজে পাচ্ছিল না। 
এমন অবস্থায় পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই পিবিআইকে তদন্ত দেওয়া হলে তারা তদন্ত শুরু করেন। এক পর্যায়ে পিবিআই গভীর তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোস্তাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।