সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

​​​​​​​অভিজিৎ বড়ুয়া অভি

প্রকাশ: ১৯:০০, ২৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, বাস্তবতা, সম্ভাবনা ও ঝুঁকি

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, বাস্তবতা, সম্ভাবনা ও ঝুঁকি

প্রথম বিদেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনকে বেছে নেওয়া খুবই গুরুত্ববহ। প্রথম বিদেশ সফরের মূল বার্তাটি হলো—বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কূটনীতি ও কৌশলগত সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যেমন চীনের বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত সহযোগিতা এবং বৃহত্তর পরিসরে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার সুযোগ। বেইজিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি নয়াদিল্লির প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা এবং একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এই সফর স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন; কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা। এই সফর সুপরিকল্পিত ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির প্রতিফলন, যার লক্ষ্য হলো আমেরিকা, ভারত বা চীন কোনো এক পক্ষের সঙ্গে দ্রুত কোনো জোটে বা ঘনিষ্ঠ বলয়ে জড়িয়ে পড়া এড়ানো। এই সফরের মাধ্যমে সরকার এমন একটি বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে যে, হাসিনা সরকারের পতনের পর অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন ‘অভ্যন্তরীণ স্বাভাবিকতা’ ফিরে পেয়েছে। এর কৌশলগত লক্ষ্য হলো চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ২০২৯ সালে বাংলাদেশের ‘স্বল্পোন্নত দেশে’ তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টি সামনে রেখে চীনের কাছ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ ও সহজ শর্তের ঋণ পাওয়া। পাশাপাশি চীনে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সমপ্রসারণ। চীন সফরের সময়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ দক্ষিণ এশিয়া ক্রমেই আমেরিকা, চীন ও ভারতের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ আসলে আমেরিকা ও নয়াদিল্লিকে সতর্ক বার্তা দেওয়া। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রভাব বা হস্তক্ষেপ। কারণ আমেরিকা বাংলাদেশকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে; এমনকি তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, অসম চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সীমান্ত উত্তেজনা, পানিবণ্টন নিয়ে অমীমাংসিত বিরোধ এবং আস্থার সংকটের কারণে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তাই বেইজিংয়ের সফর একটি ‘বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত’, কারণ তা ঢাকাকে তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনাকল্পনা এড়াতে সহায়তা করবে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রথাগতভাবেই কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া বা একপক্ষ বেছে নেওয়া থেকে বিরত থাকার নীতি অনুসরণ করে আসছে। সরকার আমেরিকা, চীন ও ভারত—সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে; একদিকে যেমন চীনা বিনিয়োগ থেকে উপকৃত হওয়া, তেমনি আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কও অটুট রাখা।

এই সফরের লক্ষ্য হলো কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়া, উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদান-প্রদান ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বহুপক্ষীয় বিষয়ে সমন্বয় জোরদার করা, যাতে চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়। এই সফরের চীনে রহমানের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ, চীনা বিনিয়োগের সম্প্রসারণ, চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের পদক্ষেপ। বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে চীন তার প্রভাব বিস্তার করেছে। চীনে ডালিয়ান ফোরামে অংশগ্রহণ এবং চীনা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক এই দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে; একইসঙ্গে এটি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরবর্তী ধাপের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর ঘটছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি একটি ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে’ পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে চীনকে এই অঞ্চলের অন্যতম ভূ-রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সর্বদা ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত। ঢাকা বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।

রোহিঙ্গা সংকট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যৌথ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ঢাকা বেইজিংয়ের সহায়তা প্রত্যাশা করে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ; চীন বিমান, নৌ-প্ল্যাটফর্ম, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। সামুদ্রিক ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজের জন্য চীনের ঋণ সহায়তা বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করছে। এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যেমন সমৃদ্ধ করছে, তেমনি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র-অর্থনীতির সুফল কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও নিরাপত্তা স্বার্থের বিবেচনায় বঙ্গোপসাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

চীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অন্যতম বিনিয়োগকারী। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, শিল্পাঞ্চল ও পরিবহন ব্যবস্থার মতো বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে চীন। বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। এই বিনিয়োগ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি উভয় সরকারই কেবল প্রকল্পভিত্তিক সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ অথবা ‘ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ এবং বিআরআই’র ক্ষেত্রে ঢাকা ক্রমেই বেইজিংয়ের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিকে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এই কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশকে অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং উন্নয়নমূলক অংশীদারত্বের সুবিধা প্রদান করে। ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্বে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও রাজনৈতিক ‘সফট পাওয়ার’ বা প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও এগুলো চীনের জন্য সহায়ক।

চীন ক্রমেই বাংলাদেশের সামাজিক অবকাঠামোতে বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে এবং বাংলাদেশও এসব ক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে। স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর উন্নয়নের সুফল দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নয়নমুখী হতে পারে, যা কেবল অর্থনৈতিক পরিধির বাইরেও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক আদান-প্রদান বা বিনিময় কার্যক্রমও বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত। অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এই বিনিময়ের ফলে এমন এক নতুন প্রজন্মের পেশাজীবী গড়ে উঠছে, যাদের চীনা প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক মডেল এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বেইজিং বাংলাদেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখছে ঠিকই, তবে এর গুরুত্ব আরও ব্যাপক। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন, সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন নতুন পর্যায়ে উপনীত। এই সহযোগিতা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র থেকে কৌশলগত ক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরের জন্য রহমান মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিয়েছেন, যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আগেই সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি অংশীদারত্বের ক্ষেত্র বহুমুখী করার ক্ষেত্রে ঢাকার প্রচেষ্টাই এই পদক্ষেপ। তবে তিস্তা নদীর গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে ‘রিভার ট্রেনিং’ বা নদীশাসন কার্যক্রম; ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও রক্ষণাবেক্ষণমূলক ড্রেজিং; নতুন বাঁধ নির্মাণ ও বিদ্যমান বাঁধ মেরামত; ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত পলি ও মাটি ব্যবহার করে ভূমি পুনরুদ্ধার এবং পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি খুবই গুরুত্ববহ। কারণ এই প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর সন্নিকটে এই এলাকার অবস্থান বিবেচনায় নিলে, সেখানে বাইরের কোনো শক্তির, বিশেষ করে চীনের প্রভাব বা উপস্থিতি বৃদ্ধি ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই করিডোরটির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি করে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম চ্যালেঞ্জটি হলো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রভাব বা হস্তক্ষেপ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তৃতীয় চ্যালেঞ্জটি দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য। একদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা সীমিত; এছাড়া বাংলাদেশের কিছু অভিজাত শ্রেণি পশ্চিমা উন্নয়ন মডেল দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। তারা প্রায়ই পশ্চিমা অর্থনৈতিক তত্ত্ব ও শাসনপদ্ধতি গ্রহণ করে, অথচ চীনের উন্নয়নপথ এবং উৎপাদন-সক্ষমতা বিষয়ক সহযোগিতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়। অন্যদিকে যদিও বাংলাদেশের কিছু অভিজাত শ্রেণি চীনের মডেলের সুবিধা ও সহযোগিতার সুফল সম্পর্কে অবগত, তবুও তারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোকে ক্ষুব্ধ করার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন থাকে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে প্রচলিত কিছু ধারণায় বাণিজ্য ঘাটতির জন্য কেবল ‘চীনা পণ্যের বিপুল আগমন’কে দায়ী করা হয়; অথচ এর পেছনে থাকা কাঠামোগত কারণগুলো, যেমন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

তারেক রহমানের এই সফর শিল্প খাতে সহযোগিতা জোরদার করবে। চীন ধারাবাহিকভাবে তার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করে আসছে; এর মাধ্যমে শ্রমব্যয়-সংক্রান্ত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চ-মূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। ‘গ্লোবাল সাউথ’ (উন্নয়নশীল বিশ্ব) এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে, যা এশীয় শিল্পশৃঙ্খল ও বহুপক্ষীয় কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। ‘চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো’ এবং ‘চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কাঠামো’ বাংলাদেশকে অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে এক সেতুবন্ধ।

লেখক: কথাসাহিত্যিক, কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক