ভালো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার তাৎপর্য ও ফজিলত
ছবি সংগৃহীত।
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"—মুসলমানের জীবনের প্রতিটি কল্যাণকর কাজের সূচনায় উচ্চারিত একটি বরকতময় বাক্য। আল্লাহর নাম স্মরণ করে কাজ শুরু করার এই শিক্ষা শুধু একটি আমল নয়, বরং এটি মুমিনের ঈমান, আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও আনুগত্যের প্রকাশ। ইসলামী শরিয়তে বিসমিল্লাহর রয়েছে অসংখ্য ফজিলত ও উপকারিতা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাতটি হলো—
১. কোরআনের অনুসরণের শিক্ষা
পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সুরার মধ্যে সুরা তাওবা ছাড়া বাকি ১১৩টি সুরাই ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিসমিল্লাহর গুরুত্ব ও মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আল্লাহর কালামের সূচনাই যখন তাঁর নাম দিয়ে, তখন মুমিনের প্রতিটি কল্যাণকর কাজও তাঁর নামেই শুরু হওয়া উচিত।
২. বরকত লাভের মাধ্যম
রাসুলুল্লাহ (সা.) গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নাম স্মরণ ছাড়া শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ বরকতহীন হয়ে যায়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু না করা হয়, তবে তা বরকতশূন্য হয়ে যায়।" (আল-জামিউস সাগির : ৬২৬৬)
৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বৃদ্ধি
বিসমিল্লাহ উচ্চারণের মাধ্যমে একজন বান্দা স্বীকার করেন যে, সব শক্তি ও সফলতার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এটি মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভরসা, বিনয় ও আত্মসমর্পণের চেতনা জাগ্রত করে।
৪. নবীদের সুন্নতের অনুসরণ
বিসমিল্লাহ শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর বৈশিষ্ট্য নয়; পূর্ববর্তী নবীরাও গুরুত্বপূর্ণ কাজে আল্লাহর নাম স্মরণ করতেন।
হজরত নূহ (আ.) নৌকায় আরোহণের সময় বলেন—
"আল্লাহর নামেই এর চলা ও থামা।"
(সুরা হুদ : ৪১)
আবার হজরত সুলায়মান (আ.)-এর রানী বিলকিসের কাছে পাঠানো চিঠিও শুরু হয়েছিল "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" দিয়ে।
(সুরা আন-নামল : ২৯-৩০)
৫. আল্লাহর রহমত লাভ
‘রাহমান’ ও ‘রাহিম’—আল্লাহর এই দুই মহান গুণবাচক নাম বিসমিল্লাহর অংশ। তাই আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ শুরু করলে তাঁর রহমত, দয়া ও অনুগ্রহ লাভের আশা করা যায়। একজন মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী।
৬. কৃতজ্ঞতার প্রকাশ
ওজু, নামাজ, খাবার গ্রহণ কিংবা অন্য যেকোনো বৈধ কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুন্দর মাধ্যম। এটি বান্দার অন্তরে বিনয় সৃষ্টি করে এবং নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শেখায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
"তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।"
(সুরা ইবরাহিম : ৭)
৭. নিরাপত্তা ও হেফাজতের মাধ্যম
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে দোয়া পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে—
"বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।"
তখন তাকে বলা হয়, "তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, নিরাপত্তা পেয়েছ এবং আল্লাহর হেফাজতে রয়েছ।" ফলে শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।
(সুনানে আবু দাউদ : ৫০৯৫)
বিসমিল্লাহ কেবল একটি বাক্য নয়; এটি মুমিনের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা, বরকত, রহমত ও নিরাপত্তার প্রতীক। তাই প্রতিটি ভালো ও বৈধ কাজের শুরুতে আন্তরিকতার সঙ্গে "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" বলা একজন মুসলমানের উত্তম অভ্যাস হওয়া উচিত।